SheikSadi

মেয়েদের চেহারা দেখলে কি ফিতনা হয়?

Oct 23rd, 2021 (edited)
135
0
Never
Not a member of Pastebin yet? Sign Up, it unlocks many cool features!
text 20.85 KB | None | 0 0
  1. মেয়েদের চেহারা দেখলে কি ফিতনা হয়?
  2.  
  3. একটি বিশেষ ঘরানার বক্তাদের দেখবেন যে, ফিতনার জুজু দেখিয়ে মেয়েদেরকে চেহারা ঢেকে রাখতে বাধ্য করে।
  4.  
  5. এই কাণ্ডারিদের নিচের প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করবেন : ফিতনা বলতে আপনারা কী বোঝান এটা আগে ক্লিয়ার করুন।
  6.  
  7. মেয়ের চেহারা দেখলে পুরুষের ভাল লেগে যাবে - এটাই কি ফিতনা?
  8.  
  9. নাকি ফিতনা বলতে বোঝান যে, পুরুষ নারীর পেছনে স্টকারের মত ঘোরাঘুরি শুরু করবে - এটা ফিতনা?
  10.  
  11. নাকি সুন্দরী নারীর চেহারা দেখে পুরুষ তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে ধর্ষন করবে - এটা ফিতনা?
  12.  
  13. ফিতনার সংজ্ঞা স্পষ্ট করুন।
  14.  
  15. দ্বিতীয় পয়েন্ট হল : বুঝলাম ফিতনা আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ফিতনা দূর করার পদ্ধতি আপনি কীভাবে ঠিক করছেন?
  16.  
  17. আপনি যে পদ্ধতি ঠিক করলেন সেটা দিয়ে কি এই ফিতনা বন্ধ হবে?
  18.  
  19. যদি বন্ধ না হয়, তাহলে বলতে হবে - আপনি ফিতনার জুজু দেখিয়ে নারীদের যে অধিকার স্বয়ং আল্লাহ ও তার রাসুল দিয়েছেন তা খর্ব করতে বাধ্য করছেন নিজেদের ধর্মের কাণ্ডারি বানিয়ে।
  20.  
  21. কোন মেয়েকে ভাল লেগে যাওয়াই যদি ফিতনার সংজ্ঞা হয়, তাহলে প্রথমত এটা ফিতরাতি বিষয়। একে ফিতনা বললে সেটা নেতিবাচক অর্থে ফিতনা বোঝা যাবে না। ফিতনা বলে কোরআনে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাও বোঝায়। সুদর্শনা নারীর প্রতি যদি পুরুষের আকৃষ্ট হবার সুযোগই সমাজে না থাকে তাহলে তো বিয়েশাদিই বন্ধ হয়ে যাবে। একজন ছেলে একটা ভাল পাত্রীর আশায় নিজেকে সামাজিকভাবে, আর্থিকভাবে প্রস্তুত করে থাকে। ভাল লাগার মত কোন সুন্দরী মেয়েই যদি সে খুঁজে না পায়, তাহলে সে নিজেকে গড়ে তোলার মোটিভেশনটা পাবে কোত্থেকে?
  22.  
  23. নাকি আপনারা ফিতনা বলতে বোঝান যে, পুরুষ নারীকে স্টকারের মত তার পিছু নিবে, ঝোপেঝাড়ে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ওঁত পেতে থাকবে? এটাই যদি ফিতনা হয় তাহলে প্রশ্ন করতে হবে, সমাজের ১০০টা পুরুষের মধ্যে কয়জন পুরুষের এই স্বভাব আছে? এই স্বভাবটা কি পুরুষের স্বাভাবিক স্বভাব নাকি এটা অপরাধী ও সাইকোপ্যাথদের স্বভাব? একজন সাইকোপ্যাথ অপরাধী ব্যক্তির আচরণ দিয়ে কি সমাজের মানুষের চলাফেরা আপনি ঠিক করতে চান? আপনি কি একটা সমাজ কীভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে আদৌ কিছু বোঝেন?
  24.  
  25. তৃতীয় যে অপশনটা থাকছে তা হল ফিতনার অর্থ নারী নিজের ব্যাপারে পথেঘাটে ধর্ষিতা হবার আশঙ্কা করবে এবং চেহারা ঢেকে রাখার মাধ্যমে সে নিজেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ রাখতে পারবে।
  26.  
  27. তুলনামূলক শব্দটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশে যদি আইনের শাসন না থাকে, তাহলে যত যাই করা হোক না কেন ধর্ষন বন্ধ করা যাবে না। এটা প্রথম পয়েন্ট। সেকেন্ড পয়েন্ট হল, সমাজ থেকে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষন এসব অপরাধ কোন যুগেই নির্মূল করা সম্ভব না। তিরমিযি ও আবু দাউদের হাদিস আছে যে, ফজরের নামায পড়তে গিয়ে এক মহিলা সাহাবি ধর্ষনের শিকার হয়েছিলেন। আল্লাহর রাসুল এই ঘটনার পরও মহিলাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করেন নি। কারণ এই রকম অনাকাংক্ষিত ঘটনা সমাজে অনিবার্যভাবে ঘটবেই। রাস্তায় বের হলে অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে এই ভেবে ঘরে বসে থাকা কেবল নন্দলালের পক্ষেই সম্ভব, সাধারণ মানুষের পক্ষে না। কোন পরিস্থিতিতে ধর্ষনের আশঙ্কা আছে কোন পরিস্থিতিতে নেই সেটা বুঝে নারীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, সে নিকাব করবে নাকি না। মাদ্রাসাতেও তো শিশুদের বলাৎকার হয়, সমকামিতা চর্চা হয়। এই জুজু দেখিয়ে কি তারা কোনদিন বলেছে যে, আজ থেকে কোমলমতী শিশুদের মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হারাম?
  28.  
  29. কেউ ভাববেন না যে আমি জেনারেল লাইনের লোক, আমি স্কুল-কলেজে পড়েছি, আমার পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড মাদ্রাসা না সে জন্য এসব কথা বলতেছি। বরং এখানে যা বললাম তার সবগুলোই ক্লাসিকাল স্কলারদের বইপত্রে পাবেন। আপনাদেরকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জানতে দেয় না কেবল।
  30.  
  31. ইমাম আবু হানিফার ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান শায়বানী বলেন :
  32.  
  33. ففسر المفسرون أن "مَا ظَهَرَ مِنْهَا": الكحل والخاتم، والكحل زينة الوجه، والخاتم زينة الكف، فرخص في هاتين الزينتين، ولا بأس بأن ينظر إلى وجهها وكفيها إلا أن يكون إنما ينظر إلى ذلك اشتهاء منه لها، فإن كان ذلك فليس ينبغي له أن ينظر إليها، وإن دعي إلى شهادة عليها أو أراد تزويجها أو كان حاكما فأراد أن ينظر إلى وجهها ليجيز إقرارها عليها وليشهد الشهود على معرفته - وإن كان إن نظر إليها اشتهاها أو كان عليه أكبر رأيه - فلا بأس بالنظر إلى وجهها وإن كان على ذلك، لأنه لم ينظر إليها هاهنا ليشتهيها، إنما نظر إليها لغير ذلك، فلا بأس بالنظر إليها وإن كان في ذلك شهوة إذا كان على ما وصفت لك).
  34.  
  35. "মুফাসসিরগণ "যা প্রকাশমান থাকে তা বাদে যেন কিছু উন্মোচন না করে" আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন কাজল ও আংটি দিয়ে। কাজল হল চেহারার সৌন্দর্য, আংটি হচ্ছে হাতের। আর এই দুইটি স্থানের সৌন্দর্যের ব্যাপারে ছাড় প্রদান করা হয়েছে। তাই নারীর চেহারা ও দুই হাতের কবজির দিকে তাকাতে কোন সমস্যা নেই। শর্ত হচ্ছে, কামোত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তাকাবে না। কিন্ত যদি সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে তাকে ডাকা হয়, কিংবা বিয়ে করার আকাঙ্ক্ষা রাখে কিংবা নিজে যদি বিচারক হয় এবং এ জন্য নারীকে চিনে নেয়ার প্রয়োজন হয়, তবে এমতাবস্থায় কামোত্তেজনা থাকলেও চেহারার দিকে তাকাতে সমস্যা নেই। কেননা এখানে ব্যক্তি কামের বশবর্তী হয়ে তাকাচ্ছে না, বরং অন্য প্রয়োজনে তাকাচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে কামনা থাকলেও সমস্যা নেই।"
  36.  
  37. (আল মাবসুত, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫৬)
  38.  
  39. ইমাম আবু মনসুর মাতুরিদি তার তাফসির গ্রন্থে আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,
  40.  
  41. ونرى - والله أعلم - أن النظر إلى وجه المرأة ليس بحرام إذا لم يقع في قلب الرجل من ذلك شهوة، فإذا وجد لذلك شهوة ولم يأمن أن يؤدي به ذلك إلى ما يُكره فمحظور عليه أن ينظر إليها إلا أن يريد به معرفتها والنكاح، فإنه قد رُخّص في ذلك).
  42.  
  43. "আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত, তবে আমাদের মতে, নারীর চেহারার দিকে তাকানো হারাম নয় যদি ব্যক্তির মনে কামোত্তেজনা তৈরি না হয়। কিন্তু যদি তৈরি হয়ে যায় এবং এই কামনার বশবর্তী হয়ে সে অপছন্দনীয় বিষয়ে লিপ্ত হয়ে যাবার আশঙ্কা থেকে মুক্ত না হয় তবে এমন অবস্থায় সে তাকানো থেকে বিরত থাকবে। তবে হ্যাঁ, যদি নারীকে চিনে নেয়া কিংবা বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার প্রয়োজন থাকে, তবে এখানে (কামোত্তেজনা সহ) ছাড় প্রদান করা হয়েছে।"
  44.  
  45. : (إلا إلى الوجه والكفين إن لم يخف الشهوة ، وعن أبي حنيفة أنه زاد القدم لأن في ذلك ضرورة للأخذ والإعطاء ومعرفة وجهها عند المعاملة مع الأجانب لإقامة معاشها ومعادها لعدم من يقوم بأسباب معاشها ، والأصل فيه قوله تعالى : ولا يبدين زينتهن إلا ما ظهر منها ، قال عامة الصحابة : الكحل والخاتم ، والمراد موضعهما لما بينا ، وموضعهما الوجه واليد … فإن خاف الشهوة لا يجوز إلا للحاكم والشاهد لما فيه من الضرورة إلى معرفتها لتحمل الشهادة والحكم عليها
  46.  
  47. ইবন মওদুদ আল মাওসেলি আল হানাফি (৬৮৩ হি) তার আল ইখতিয়ার ফি তালিলিল মুখতার গ্রন্থে বলেন,
  48.  
  49. "শাহওয়াতের আশঙ্কামুক্ত হলে চেহারা ও দুই হাতের কবজি ছাড়া অন্য কিছুর দিকে তাকাবে না। আবু হানিফা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি পায়ের কদমকেও অন্তর্ভূক্ত করেছেন। চেহারা ও হাতের ব্যাপারে ছাড় দেয়ার কারণ হচ্ছে হাত দিয়ে নারীকে জিনিসপত্র নিতে ও ধরতে হয়, অপরিচিত পুরুষদের সাথে লেনদেনের সময় তার চেহারা পুরুষদের চিনে নিতে হয়। নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনধারণের তাকিদেই তাকে এগুলো করতে হয় যখন তার হয়ে এগুলো করে দেবার মানুষ না থাকে। আর এই বক্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে কোরআনের আয়াত 'যে সৌন্দর্য প্রকাশমান থাকে তা ব্যতীত কিছু উন্মোচন করো না' সাহাবিদের সর্বসাধারণ বলেছেন যে, আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে কাজল ও আংটি। অর্থাৎ এই দুইটির স্থান তথা চেহারা ও হাত। ... যদি ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে শাহওয়াতের ভয় করে তবে কেবলমাত্র বিচারক ও সাক্ষীর জন্য শাহওয়াতসহ চেহারার দিকে তাকানো জায়েয কেননা বিচার ও সাক্ষ্য প্রদানের জন্য চেহারা দেখে চিহ্নিত করা অত্যাবশকীয়।" (খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৫৬)
  50.  
  51. এখন আসুন কামোত্তেজনা বলতে কী বোঝায় সেটার ব্যাপারে পরিষ্কার হই। আজকে যেহেতু বাংলাদেশের হানাফি মাযহাবের এক কাণ্ডারির সাথে কথাবার্তার জের ধরে লিখতে বসেছি, তাই হানাফিদের কিতাব থেকেই হাওয়ালা দিব।
  52.  
  53. রদ্দুল মোহতার কিতাবে কামনা ও কামোত্তেজনার স্পষ্ট সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে,
  54.  
  55. أن يميل بالقلب ويشتهي أن يعانقها وقيل أن يقصد مواقعتها، ولا يبالي من الحرام
  56.  
  57. "অন্তরে ঝোক চলে আসা, নারীকে জড়িয়ে ধরার কামনা তৈরি হওয়া কিংবা কারো মতে নারীর সাথে যৌনতা স্থাপনের ইচ্ছা তৈরি হওয়া এবং হারামের তোয়াক্কা না করা।"
  58.  
  59. ইবনে আবেদীন রহিমাহুল্লাহ আরো স্পষ্ট করেছেন যে, সুদর্শনা নারীকে দেখে ভাল লাগা স্বাভাবিক বিষয়, নিন্দনীয় না।
  60.  
  61. حاصله أن مجرد النظر واستحسانه لذلك الوجه الجميل، وتفضيله على الوجه القبيح كاستحسان المتاع الجزيل لا بأس به، فإنه لا يخلو عنه الطبع الإنساني، بل يوجد في الصغار، فالصغير المميز يألف صاحب الصورة الحسنة أكثر من صاحب الصورة القبيحة ويرغب فيه، ويحبه أكثر بل قد يوجد ذلك في البهائم، فقد أخبرني من رأى جملا يميل إلى امرأة حسناء ويضع رأسه عليها، كلما رآها دون غيرها من الناس، فليس هذا نظر شهوة، وإنما الشهوة ميله بعد هذا ميل لذة إلى القرب منه أو المس له زائدا على ميله إلى المتاع الجزيل، أو الملتحي لأن ميله إليه مجرد استحسان ليس معه لذة وتحرك قلب إليه كما في ميله إلى ابنه أو أخيه الصبيح، وفوق ذلك الميل إلى التقبيل أو المعانقة أو المباشرة أو المضاجعة
  62.  
  63. "মোদ্দাকথা হচ্ছে : কেবলমাত্র সুন্দর চেহারা দেখে ভাল লাগা এবং অন্যান্য চেহারার উপর সুন্দর চেহারাকে প্রাধান্য দেয়ার তুলনা হচ্ছে কোন মহামূল্যবান দ্রব্য দেখে ভাল লাগার মত। এতে কোন সমস্যা নেই।
  64.  
  65. কেননা এটা স্বাভাবিক মানবীয় বিষয় যা থেকে কেউই মুক্ত নয়। এমনকি বুঝমান ছোট বাচ্চাদের মাঝেও দেখা যায় যে তারা সুদর্শন চেহারার প্রতি অধিক আকৃষ্ট হয়, সুন্দর চেহারার মানুষের প্রতি অনুরক্ত থাকে, তাদের পছন্দ করে। এমনকি এটা অবুঝ প্রাণীদের মাঝেও রয়েছে। আমাকে এক ব্যাক্তি এমনও জানিয়েছে যে, একটি উট সুন্দরী এক নারীকে দেখে আকৃষ্ট হয় এবং যখনই তাকে দেখে নিজ মাথা তার কোলে রাখে। কিন্তু এটা অন্য মানুষের সাথে করে না।
  66.  
  67. এমন অনুভূতি থেকে নারীকে দেখা শাহওয়াত বা কামোত্তেজনার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত না। বরং শাহওয়াত হল এর চাইতেও অতিরিক্ত বিষয়। একটা সুন্দর ও মূল্যবান জিনিসকে দেখে যে আকর্ষণ তৈরি হয়, তার চাইতেও অতিরিক্ত কামনা এখানে থাকে। যার ফলে সে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ট হতে চায়, নারীকে স্পর্শ করতে চায়। সুদর্শন পুরুষের ক্ষেত্রেও একই কথা। যদি এই অতিরিক্ত কামনা ব্যতিরেকে ব্যক্তির অন্তর তার প্রতি আকৃষ্ট হয় যেভাবে নিজের ছেলে কিংবা ভাইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে এটা শাহওয়াত না। শাহওয়াত হল এমন বিষয় যার কারণে চুমু দিতে, জড়িয়ে ধরতে, ঘনিষ্ট হতে কিংবা সহবাস করতে উদ্বুদ্ধ হয়।" (সমাপ্ত)
Add Comment
Please, Sign In to add comment