SheikSadi

কওমি মাদ্রাসায় সমকামিতা ও সালাফদের সতর্কবাণী উপেক্ষা

Oct 26th, 2021 (edited)
71
0
Never
Not a member of Pastebin yet? Sign Up, it unlocks many cool features!
text 17.51 KB | None | 0 0
  1. কওমি মাদ্রাসায় সমকামিতা ও সালাফদের সতর্কবাণী উপেক্ষা।
  2.  
  3. আজকাল কওমি ঘরানার লোকেরা নারীর চেহারা ফিতনা ইত্যাদি বলে খুব উচ্চবাচ্য করলেও সমকামের ফিতনার ব্যাপারে মৌনতা গ্রহণ করে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবেই গড়ে উঠেছে যে এখানে সমকাম চর্চা হবেই। না, এটা আমার বক্তব্য না। ইমাম ইবনে তায়মিয়্যাহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া' গ্রন্থেই সালাফদের বরাত দিয়ে এটা লিখেছেন।
  4. ইবনে তায়মিয়্যাহ বলেন,
  5. وَكَانَ يُقَالُ لَا يَبِيتُ الرَّجُلُ فِي بَيْتٍ مَعَ الْغُلَامِ الْأَمْرَدِ وَقَالَ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا بِإِسْنَادِهِ عَنْ أَبِي سَهْلٍ الصعلوكي: قَالَ سَيَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ قَوْمٌ يُقَالُ لَهُمْ اللُّوطِيُّونَ عَلَى ثَلَاثَةِ أَصْنَافٍ. صِنْفٌ يَنْظُرُونَ وَصِنْفٌ يُصَافِحُونَ وَصِنْفٌ يَعْمَلُونَ ذَلِكَ الْعَمَلَ.
  6. একটি কথা প্রচলিত ছিল ‘কোন পুরুষ যেন শ্মশ্রুহীন (দাঁড়িবিহীন) তরুনের সাথে এক ঘরে রাত না কাটায়’। ইবনে আবিদ দুনিয়া নিজস্ব ইসনাদে আবু সাহল সা'লুকি থেকে বর্ণনা করেন, “এই উম্মতের মাঝে একটি দল থাকবে যাদের বলা হবে লুতী (সমকামী)। তারা তিন শ্রেণীর হবে: এক শ্রেণী কেবল দেখবে, এক শ্রেণী মুসাফাহা (করমর্দন) করবে, এক শ্রেণী কর্ম সম্পাদন করবে।”
  7. وَقَالَ إبْرَاهِيمُ النَّخَعِي: كَانُوا يَكْرَهُونَ مُجَالَسَةَ الْأَغْنِيَاءِ وَأَبْنَاءِ الْمُلُوكِ وَقَالَ: مُجَالَسَتُهُمْ فِتْنَةٌ إنَّمَا هُمْ بِمَنْزِلَةِ النِّسَاءِ.
  8. ইব্রাহিম নখ'য়ি বলেছেন, “পূর্ববর্তীরা গায়ক ও রাজপরিবারের ছেলেদের সাথে এক আসরে বসা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন যে, এই ছেলেদের সাথে বসা ফিতনা। তাদের অবস্থা নারীদের মতই।”
  9. وَوَقَفَتْ جَارِيَةٌ لَمْ يُرَ أَحْسَنُ وَجْهًا مِنْهَا عَلَى بِشْرٍ الْحَافِي فَسَأَلَتْهُ عَنْ بَابِ حَرْبٍ فَدَلَّهَا ثُمَّ وَقَفَ عَلَيْهِ غُلَامٌ حَسَنُ الْوَجْهِ فَسَأَلَهُ عَنْ بَابِ حَرْبٍ فَأَطْرَقَ رَأْسَهُ فَرَدَّ عَلَيْهِ الْغُلَامُ السُّؤَالَ فَغَمَّضَ عَيْنَيْهِ فَقِيلَ لَهُ: يَا أَبَا نَصْرٍ جَاءَتْك جَارِيَةٌ فَسَأَلَتْك فَأَجَبْتهَا وَجَاءَك هَذَا الْغُلَامُ فَسَأَلَك فَلَمْ تُكَلِّمْهُ فَقَالَ: نَعَمْ.
  10. বিশরে হাফির সামনে এক অপূর্ব সুন্দরী নারী এসে থামে এবং তাকে বাবে হারব নামক স্থানের ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। তিনি তাকে পথ বাতলে দেন। কিন্তু এরপর যখন সুদর্শন চেহারার এক কিশোর ছেলে উপস্থিত হয়, তিনি নিজের চেহারা অবনমিত রাখেন। ছেলেটি তাকে একই প্রশ্ন করে। কিন্তু তিনি তার চোখ বন্ধ করে ফেলেন। আশপাশের লোকেরা বলে ওঠে, “হে আবু নাসর! আপনার কাছে এক মেয়ে এল, আপনি তার প্রশ্নের উত্তর দিলেন। কিন্তু এই ছেলেটা আপনার কাছে এল, কিন্তু আপনি কোন কথা বলছেন না কেন? “ বিশরে হাফি কেবল বললেন, “হ্যাঁ।”
  11. يُرْوَى عَنْ سُفْيَانِ الثَّوْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ: مَعَ الْجَارِيَةِ شَيْطَانٌ وَمَعَ الْغُلَامِ شَيْطَانَانِ فَخَشِيت عَلَى نَفْسِي شَيْطَانَيْهِ.
  12. সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, “কোন কিশোরী মেয়ের সাথে একটি শয়তান থাকলে, একটি কিশোর ছেলের সাথে দুইটি শয়তান থাকে। আমি নিজের ব্যাপারে এই দুই শয়তানকে ভয় করি।”
  13. وَرَوَى أَبُو الشَّيْخِ الْقَزْوِينِيُّ بِإِسْنَادِهِ عَنْ بِشْرٍ أَنَّهُ قَالَ: احْذَرُوا هَؤُلَاءِ الْأَحْدَاثَ
  14. আবুশ শায়খ কাযভিনি তার সনদে বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন, “এসকল কিশোর বয়সীদের থেকে সতর্ক থাকো!”
  15. وَقَالَ فَتْحٌ الْمُوصِلِيُّ: صَحِبْت ثَلَاثِينَ شَيْخًا كَانُوا يُعَدُّونَ مِنْ الْأَبْدَالِ كُلُّهُمْ أَوْصَانِي عِنْدَ مُفَارَقَتِي لَهُ: اتَّقِ صُحْبَةَ الْأَحْدَاثِ: اتَّقِ مُعَاشَرَةَ الْأَحْدَاثِ.
  16. ফাতহ আল মাওসেলি বলেন, “আমি ত্রিশজন সুফি শায়খের সোহবত লাভ করেছি যাদেরকে আবদাল গণ্য করা হত। বিদায়বেলায় তারা প্রত্যেকে আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন ‘কিশোর বয়সীদের সঙ্গ থেকে সাবধান থাক!’, ‘কিশোরদের সাথে চলাফেরার ব্যাপারে সাবধান থাক!’”
  17. وَكَانَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ لَا يَدَعُ أَمْرَدَ يُجَالِسُهُ
  18. সুফিয়ান সাওরি কোন শ্মশ্রুহীনকে তার মজলিসে বসতে দিতেন না।
  19. وَكَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يَمْنَعُ دُخُولَ الْمُرْدِ مَجْلِسَهُ لِلسَّمَاعِ فَاحْتَالَ هِشَامٌ فَدَخَلَ فِي غِمَارِ النَّاسِ مُسْتَتِرًا بِهِمْ وَهُوَ أَمَرَدُ فَسَمِعَ مِنْهُ سِتَّةَ عَشَرَ حَدِيثًا فَأَخْبَرَ بِذَلِكَ مَالِكٌ فَضَرَبَهُ سِتَّةَ عَشَرً سَوْطًا فَقَالَ هِشَامٌ: لَيْتَنِي سَمِعْت مِائَةَ حَدِيثٍ وَضَرَبَنِي مِائَةَ سَوْطٍ وَكَانَ يَقُولُ: هَذَا عِلْمٌ إنَّمَا أَخَذْنَاهُ عَنْ ذَوِي اللِّحَى وَالشُّيُوخِ فَلَا يَحْمِلُهُ عَنَّا إلَّا أَمْثَالُهُمْ
  20. ইমাম মালেক তার হাদিসের মজলিসে কোন শ্মশ্রুহীন ছেলেকে ঢুকতে দিতেন না। এই কারণে হিশাম কৌশল অবলম্বন করেন এবং মানুষের ভিড়ে মিশে তাদের আড়ালে মজলিসে অংশ নেন। হিশামের কোন দাঁড়ি ছিল না। সেই মজলিসে হিশাম ১৬টি হাদিস শিক্ষা করেন। তিনি ইমাম মালেককে এটা জানালে ইমাম মালেক তাকে চাবুক দিয়ে ১৬ বার প্রহার করেন। হিশাম বলেন যে, “হায়! আমি যদি একশটি হাদিস শুনে ফেলতাম, আমাকে একশবার চাবকের আঘাত খেতে হত।” পরবর্তীতে হিশাম বলতেন যে, “এই ইলমে দীন আমরা দাড়িবিশিষ্ট পুরুষ ও বৃদ্ধদের কাছ থেকে শিখেছে, আমাদের কাছ থেকে এই ইলম কেবল শ্মশ্রুমণ্ডিত লোকেরাই গ্রহণ করবে।”
  21. وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: مَا طَمِعَ أَمْرَدُ أَنْ يَصْحَبَنِي وَلَا أَحْمَد بْنَ حَنْبَلٍ فِي طَرِيقٍ.
  22. ইয়াহিয়া বিন মাঈন বলতেন, “কোন শ্মশ্রুহীন কিশোর রাস্তায় আমার কিংবা আহমদ বিন হাম্বলের সাথে চলার সাহস করত না”
  23. وَقَالَ أَبُو عَلِيٍّ الروذباري: قَالَ لِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَد بْنُ الْمُؤَدَّبِ: يَا أَبَا عَلِيٍّ مِنْ أَيْنَ أَخَذَ صُوفِيَّةُ عَصْرِنَا هَذَا الْأُنْسَ بِالْأَحْدَاثِ وَقَدْ تَصْحَبُهُمْ السَّلَامَةُ فِي كَثِيرٍ مِنْ الْأُمُورِ؟ فَقَالَ: هَيْهَاتَ قَدْ رَأَيْنَا مَنْ هُوَ أَقْوَى مِنْهُمْ إيمَانًا إذَا رَأَى الْحَدَثَ قَدْ أَقْبَلَ فَرَّ مِنْهُ كَفِرَارِهِ مِنْ الْأَسَدِ وَإِنَّمَا ذَاكَ عَلَى حَسَبِ الْأَوْقَاتِ الَّتِي تَغْلِبُ الْأَحْوَالُ عَلَى أَهْلِهَا فَيَأْخُذُهَا تَصَرُّفُ الطِّبَاعِ مَا أَكْثَرَ الْخَطَأِ مَا أَكْثَرَ الْغَلَطِ
  24. আবু আলি রুযাবারি বলেন, আমাকে আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুয়াদ্দাব জিজ্ঞেস করলেন, “হে আবু আলি! আমাদের সময়কার সুফি শায়খদের মাঝে কিশোর বয়সী ছেলেদের প্রতি কোমলতা কীভাবে প্রবেশ করল? অধিকাংশ বিষয়েই তো তারা নিরাপদ থাকে, এখানে তাদের ব্যতিক্রম কেন হল?” আবু আলি জবাব দেন, “আমি এই শায়খদের চাইতে শক্তিশালী ঈমানের অধিকারীদের দেখেছি যারা কিশোর বয়সী ছেলে দেখলে এমনভাবে পালাতেন যেভাবে মানুষ সিংহ দেখে পালায়। আর দুর্ঘটনা তো ঘটে বিশেষ সময়ে যখন পরিস্থিতি ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কতই না ভুলের মাঝে তারা আছে! কতই না ভ্রান্তির মাঝে তারা আছে!”
  25. قَالَ الْجُنَيْد بْنُ مُحَمَّدٍ جَاءَ رَجُلٌ إلَى أَحْمَد بْنِ حَنْبَلٍ مَعَهُ غُلَامٌ أَمْرَدُ حَسَنُ الْوَجْهِ فَقَالَ لَهُ: مَنْ هَذَا الْفَتَى فَقَالَ الرَّجُلُ: ابْنِي فَقَالَ لَا تَجِئْ بِهِ مَعَك مَرَّةً أُخْرَى فَلَامَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ فِي ذَلِكَ فَقَالَ أَحْمَد: عَلَى هَذَا رَأَيْنَا أَشْيَاخَنَا وَبِهِ أَخْبَرُونَا عَنْ أَسْلَافِهِمْ.
  26. জুনায়েদ বাগদাদি বলেন, ইমাম আহমদের কাছে এক লোক এল যার সাথে ছিল সুদর্শন চেহারর এক শ্মশ্রুহীন কিশোর। ইমাম জিজ্ঞেস করলেন, কে এই ছেলে? লোকটি বলল, আমার সন্তান। ইমাম বললেন, 'দ্বিতীয়বার তাকে সাথে করে নিয়ে আসবে না' ইমামের এমন উত্তর শুনে তার কিছু সঙ্গী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। ইমাম তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এমন করতেই আমি নিজের শিক্ষক ও শায়খদের দেখেছি। তারা বলেছেন যে, তাদের সালাফরাও একই কাজ করতেন।”
  27. وَجَاءَ حَسَنُ بْنُ الرَّازِي إلَى أَحْمَد وَمَعَهُ غُلَامٌ حَسَنُ الْوَجْهِ فَتَحَدَّثَ مَعَهُ سَاعَةً فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ قَالَ لَهُ أَحْمَد: يَا أَبَا عَلِيٍّ لَا تَمْشِ مَعَ هَذَا الْغُلَامِ فِي طَرِيقٍ فَقَالَ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ إنَّهُ ابْنُ أُخْتِي قَالَ: وَإِنْ كَانَ: لَا يَأْثَمُ النَّاسُ فِيك
  28. হাসান বিন রাযি একবার এক সুদর্শন চেহারার কিশোরকে নিয়ে ইমাম আহমদের কাছে আসেন এবং এক ঘণ্টার মত অবস্থান করেন। বিদায় নেবার সময় ইমাম আহমদ তাকে বলেন, “ইয়া আবু আলি! তুমি পথেঘাটে এই ছেলেকে সাথে নিয়ে চলাফেরা ত্যাগ কর।” তিনি উত্তরে বললেন, “ইয়া আবু আব্দিল্লাহ! এই ছেলে তো আমার ভাগ্নে, বোনের ছেলে!” ইমাম বললেন, “হোক সে ভাগ্নে! এটা করলে তোমার কারণে মানুষের গুনাহ হবে না।”
  29. وَرَوَى ابْنُ الْجَوْزِيِّ بِإِسْنَادِهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ: إذَا رَأَيْتُمْ الرَّجُلَ يُلِحُّ بِالنَّظَرِ إلَى الْغُلَامِ الْأَمْرَدِ فَاتَّهِمُوهُ
  30. ইবনুল জাওযি তার সনদে সাঈদ বিন মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেছেন, “যদি কোন পুরুষকে দেখ সে কোন কিশোরের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে আছে, তাকে সন্দেহ কর। চিহ্নিত করে রাখ।”
  31. — মাজমুউল ফাতাওয়া, শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যাহ।
  32. এবার আপনারাই বলুন কওমিদের দ্বিচারিতার কী জবাব আমাদের দেয়া উচিত। তারা নারীদের স্বাভাবিকভাবে চেহারা খোলা রাখার কোন অনুমতি দেয় না, বাড়াবাড়ি করে। অথচ নারীদের চেহারা খোলা রাখার ব্যাপারে চার মাযহাবের ইমামদের সমর্থন আছে। ফিতনার জুজু দেখিয়ে নারীদের নিকাব করা না করার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। অথচ ঠিকই ইলম শিক্ষাদানের নামে মহা-ফিতনাতে নিজেরা মশগুল হয়ে আছে। বিচার কেবল আল্লাহর কাছেই দিলাম।
Add Comment
Please, Sign In to add comment