Not a member of Pastebin yet?
Sign Up,
it unlocks many cool features!
- Muhammad Qasim ভাই প্রশ্ন করেছেন, মাসিক আল কাউসারে প্রকাশিত "টুপি পরা সুন্নত" শীর্ষক আর্টিকেলের ব্যাপারে আমার মতামত কী? লিংক - https://www.alkawsar.com/bn/article/1006/
- উত্তর: আর্টিকেলটি লেখকের উসুলুল ফিকহ সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক।
- শরিয়তের হুকুম ৫টি। ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মুবাহ, মাকরুহ, হারাম। টুপি পরা হয়ত ওয়াজিব হবে, নয়ত মুস্তাহাব (সুন্নত) হবে, নয়ত মুবাহ হবে, নয়ত মাকরুহ অথবা হারাম। ওয়াজিব, হারাম যে হবে না এটা জানা কথা। বাকি থাকল তিনটা। আমরা কোন ক্যাটাগরিতে তাহলে একে ফেলব?
- আর্টিকেল লেখক অনেকগুলো আছার একত্র করেছেন যার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে টুপি পরা আমভাবে রাসুল, সাহাবি, তাবেয়ি ও সালাফের যুগে প্রচলিত ছিল। এটা ছিল সুবিদিত ও সুপ্রতিষ্টিত একটি প্র্যাকটিস। মুতাওয়াতির সুত্রে এটি প্রমাণিত। জি, অনেক ধন্যবাদ। আপনি এত এত সময় ও শ্রম ক্ষেপন করে "তাহসিলুল হাসিল" বৈ কিছু করতে পারেন নি। টুপি পরার রেওয়াজ যে সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীর আরব্য রেওয়াজ সেটা এত এত রেওয়াত ও আছার একাট্টা না করলেও আমরা মেনে নিব।
- আমরা চাইলে এই লেখার চাইতে কয়েকগুণ বড় লেখা তৈরি করতে পারব যেখানে দেখানো যাবে যে, সাহাবিরা ভাত খেতেন না, খেজুর ও খুবজ খেতেন। ডাল খেতেন না, সারিদ খেতেন। মুরগির মাংস খেতেন না, মাছ খেতেন না। উটের ও ভেড়ার মাংস খেতেন। খেজুর, খুবজ, উট, ভেড়া তো আমরা খাই না। তাই বলে কি আমরা নবির সুন্নত পরিত্যাগ করেছি? না করলে কেন করি নি? নবী ও সাহাবিদের যুগে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে এটাই তো ছিল স্ট্যান্ডার্ড। এই নিয়ে কোন সন্দেহ করার অবকাশ তো নেই।
- আর্টিকেল লেখক যদি ফকিহ হতেন তাহলে তিনি সিহহত-সুবুত (বিশুদ্ধতা ও সাব্যস্ততা) দিয়ে ক্ষান্ত হতেন না, দালালত-ইকতিদ্বা (তাৎপর্য ও চাহিদা) নিয়েও কথা তুলতেন। ঠিক আছে, টুপি পরার বিষয়টি মুতাওয়াতির ও মুতাওয়ারিস সুত্রে সুসাব্যস্ত ও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। কিন্তু এর তাৎপর্য বা চাহিদা কী? এ থেকে কী প্রমাণ হয়?
- কোন একটি বিষয় রাসুলের যুগে সাবেত-সাব্যস্ত হওয়াই কি সেটা মুস্তাহাব হবার জন্য যথেষ্ট? রাসুল বাথরুম করার পর কোনদিন সাবান দিয়ে হাত ধুঁয়েছেন? তিনি কীভাবে হাত পরিষ্কার করতেন? আমরা যে এখন সেভাবে হাত পরিষ্কার করছি না, এর ফলে কি আমরা মুস্তাহাব-সুন্নত তরক করছি? না করলে, কেন করছি না? এখানে কি কর্মের সুবুত নিয়ে প্রশ্ন নাকি দালালত নিয়ে?
- রাসুল ও সাহাবিদের থেকে বহু কাজ সাবেত আছে। কিন্তু সেই কাজগুলো দুই প্রকারের - ১) তাআব্বুদি, ২) আদাত-অভ্যাস। তাআব্বুদি মানে সে কাজটি তারা ইবাদত মনে করে করতেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশকৃত বা উৎসাহিত বিষয় মেনে করতেন। কোন কাজকে তাআব্বুদি প্রমাণ করার জন্য কেবল সেই কাজের সুবুত প্রমাণ করা যথেষ্ট না। বরং সেই কাজটি করাই যে শরিয়তের দাবি সেটাকে ভিন্ন দলিল দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।
- সাহাবিরা খেজুর-খুবজ খেতেন, ডান হাত দিয়ে খেতেন। এর মধ্যে প্রথমটি মুস্তাহাব নয়, কারণ এটা তাআব্বুদি নয়। কিন্তু ডান হাত দিয়ে খাওয়া মুস্তাহাব, কেননা এটা তাআব্বুদি। আর কীভাবে এটা তাআব্বুদি হয়েছে? শরিয়তপ্রণেতার পক্ষ থেকে আগত তাকলিফি খিতাবের মাধ্যমে। অর্থাৎ শরিয়তপ্রণেতা এমন কিছু বলেছেন যার দ্বারা প্রমাণ হয়েছে যে এই কাজটি করতে আমাকে শরয়িভাবে আদেশ কিংবা উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে খেজুর-খুবজ খেতে যেহেতু তাকলিফি আদেশ আসে নি, তাই সেটা মুস্তাহাব হয় নি। বরং কেবল আদাত-অভ্যাস হিসেবেই রয়ে গেছে। যদি এমন কোন হাদিসও পাওয়া যায় যেখানে খেজুর খেতে আদেশ কিংবা উৎসাহ দেয়া হয়েছে, তবে সেখানে কারায়েন (আনুষাঙ্গিক প্রমাণাদি) দ্বারা অনুসন্ধান করে দেখতে হবে যে, এই আদেশটা কি তাশরিয়ি/তাকলিফি কিনা। কেবলমাত্র তাশরিয়ি-তাকলিফি আদেশ কিংবা উৎসাহ থাকলেই কোন কাজ মুস্তাহাব হতে পারে।
- এটা একটা দিক। কিন্তু আলোচনার অন্য একটা দিকও আছে। সেটা হচ্ছে মুরুআত ও দানাআতের আলোচনা। মুরুআত হল রুচিশীলতা। দানাআত হল রুচিহীনতা। এটা একটা স্থান-কাল-পাত্রের উপর নির্ভরশীল আপেক্ষিক ও সামাজিক বিষয়।
- المروءَة هي المحافظَةُ على فِعْل ما تَرْكُه من مُباحٍ يُوجِبُ الذَّمَّ عُرْفًا... وعلى ترْك ما فعلُه من مُباحٍ يوجبُ ذَمَّه عُرْفًا...
- ইমাম ইবনে আরাফা বলেন, রুচিশীলতা (মুরুআত) হল এমন বিষয় পালন করা যা স্বয়ং মুবাহ; কিন্তু পরিত্যাগ করলে সামাজিকভাবে নিন্দা করা হয় এবং এমন বিষয় পরিত্যাগ করা যা স্বয়ং মুবাহ; কিন্তু তা করলে সামাজিকভাবে নিন্দা করা হয়।
- এই কায়েদার অধীনেই আমরা বলি - যে সমাজে টুপি পরাই রুচিশীলতার পরিচায়ক সেখানে টুপি পরতে হবে। মুরুআত রক্ষা করার কারণে তার জন্য টুপি পরা মুস্তাহাব হবে। আর যে সমাজে টুপি পরার প্রচলন নেই, সেই সমাজে টুপি পরা হবে মাকরুহ। কেননা তখন এটি লিবাসুস শুহরত এর হুকুমের অধীন হবে। নবি ও সাহাবিরা যে টুপি পরেছেন। কিংবা ওমর রাঃ যে অন্যকে টুপি পরতে উৎসাহিত করেছেন, সেটা মূলত এই সামাজিক রুচিশীলতা রক্ষা করতেই। ইমাম আহমদ তার কিতাবুয যুহদে ওমর রা. থেকে সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন -
- إياكم وزي الأعاجم ونعيمه
- "অনারবদের পোশাক-আশাক ও তাদের মনোরোম বিষয়াবলি থেকে সাবধান থাকো!"
- হাম্বলি মাযহাবের কাশশাফ আল কিনা' গ্রন্থে বলা হয়েছে,
- يكره للرجل لبسه زي الأعاجم للنهي عن التشبه بالأعاجم
- "কোন ব্যক্তির জন্য অনারবদের পোশাক পরা মাকরুহ, কেননা অনারবদের পোশাক পরতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।"
- যেকোন আকলসম্পন্ন ব্যক্তি বুঝবে যে, এই বক্তব্যটি আরবদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমরা যারা অনারব আছি, আমাদেরকে কি কোনদিন বলা সম্ভব যে অনারবদের পোশাক পরো না!
- আর একারণেই এই কিতাবেই পরের লাইনে বলা হয়েছে,
- (ويكره) لبس (خلاف زي) أهل (بلده
- "নিজ দেশের লোকদের প্রচলিত পোশাকের বিপরীত পোশাক পরা মাকরুহ"
- গিযাউল আলবাব কিতাবে আছে,
- رأى الإمام أحمد -رحمه الله- رجلاً لابساً بُرداً مخططاً , بياضاً وسواداً , فقال: (ضع هذا , والبس لباسَ أهلِ بلدك) وقال: (ليس هو بحرام , ولو كنتَ بمكة أو المدينة , لم أعب عليك)
- "ইমাম আহমদ একদিন এক লোকদের সাদাকালো ডোরাকাটা চাঁদর পরিহিত দেখে বললেন, এটা ছাড়ো এবং নিজ অঞ্চলের পোশাক পরো। তুমি যা পড়েছ তা হারাম নয়। তুমি যদি মক্কা কিংবা মদিনায় এটা পরতে আমি তোমার সমালোচনা করতাম না।"
- ইবনে বাত্তাল বলেছেন সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন, الذي ينبغي للرجل: أن يتزيا في كل زمان بِزِيِّ أهله , ما لم يكن إثماً , لأن مخالفة الناس في زِيِّهِمْ ضَرْبٌ من الشهرة
- "সকল যুগের মানুষের কর্তব্য হচ্ছে সমাজের মানুষের পোশাক অনুযায়ী পোশাক পরা। যতক্ষণ সেটি গুনাহের বিষয় না হচ্ছে। কেননা পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে সমাজের মানুষের বিপরীত করা হচ্ছে এক প্রকার খ্যাতি অর্জন।"
- আর্টিকেল লেখক সাহেবকে বলব তিনি যেন লম্বা লম্বা লেখা প্রকাশ করার আগে উসুলুল ফিকহ পড়েন। উসুল বিনা হাদিস চর্চা জ্ঞানের পরিবর্তে সংশয়ই বৃদ্ধি করে।
- আল বাহরুল মুহিত গ্রন্থে আছে, ইমাম ইবনু দাকিক আল ইদ বলেছেন, أصولُ الفقهِ هو الذي يَقضِي ولا يُقضَى عليهِ উসুলুল ফিকহ দিয়েই অন্যসব বিচার করা হবে। উসুলুল ফিকহকে অন্য কিছু দিয়ে বিচার করা যাবে না।
- আল ফুরুক কিতাবে ইমাম কারাফি বলেছেন, فالشريعة من أولها إلى آخرها مبنيةٌ على أصول الفقه শরিয়তের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই উসুলুল ফিকহের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
- এত বড় আর্টিকেল লেখার আগে লেখক যদি একটু খোঁজাখুঁজি করে ইমাম শাতেবির এই বক্তব্যটা দেখে নিতেন!
- আল মুওয়াফাকাত কিতাবে ইমাম শাতেবি বলেন,
- العوائد المستمرة ضربان: أحدهما: العوائد الشرعية التي أقرها الدليل الشرعي أو نفاها...،
- والضرب الثاني: هي العوائد الجارية بين الخلق بما ليس في نفيه ولا إثباته دليل شرعي...ومنها: ما يكون متبدلا في العادة من حسن إلى قبح، وبالعكس، مثل كشف الرأس، فإنه يختلف بحسب البقاع في الواقع، فهو لذوي المروءات قبيح في البلاد المشرقية، وغير قبيح في البلاد المغربية، فالحكم الشرعي يختلف باختلاف ذلك، فيكون عند أهل المشرق قادحا في العدالة، وعند أهل المغرب غير قادح
- "প্রচলিত আদত-অভ্যাস দুই প্রকারের।
- প্রথম প্রকার হল সেসব শরিয়তের আওতাভূক্ত অভ্যাস যার ব্যাপারে শরয়ি দলিল হয়ত অনুমতি দিয়েছে অথবা নিষেধ করেছে।
- দ্বিতীয় প্রকার হল সেসব আদত-অভ্যাস যা সমাজে প্রচলিত আছে এবং যার ব্যাপারে শরিয়তের কোন আদেশ কিংবা নিষেধজ্ঞাপক দলিল নেই। এদের মধ্যে অনেক বিষয় আছে যা পরিবর্তনশীল। কোন সমাজে হয়ত প্রশংসনীয় অন্য সমাজে তাই নিন্দনীয়। যেমন মাথা খোলা রাখা। এর বিষয়টা একেক অঞ্চলে একেক রকম। প্রাচ্যের দেশগুলোতে মাথা খোলা রাখা মন্দ বিষয়। কিন্তু পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এটি মন্দ নয়। সুতরাং এই বিষয়ে শরিয়তের হুকুমও সমাজ অনুযায়ী ভিন্ন হবে। তাই পূর্বদেশের কোন মানুষ এই কাজ করলে তার আদালত (সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্যতা) নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু পশ্চিমদেশে একই কাজ করলে কোন প্রশ্ন উঠবে না।"
- – আল মুওয়াফাকাত, ২/৪৮৯।
Add Comment
Please, Sign In to add comment