SheikSadi

মেয়েরা চেহারা খোলা রাখতে পারবে — ইমাম মালিক

Oct 31st, 2021
41
0
Never
Not a member of Pastebin yet? Sign Up, it unlocks many cool features!
text 18.76 KB | None | 0 0
  1. মেয়েরা চেহারা খোলা রাখতে পারবে — ইমাম মালিক
  2.  
  3. • ورد في الموطأ للإمام مالك ت سنة 179ﻫ: ( سئل مالك: هل تأكل المرأة مع غير ذي محرم منها أو مع غلامها؟ فقال مالك: ليس بذلك بأس...قال: وقد تأكل المرأة مع زوجها ومع غيره ممن يؤاكله..)
  4. দারুল হিজরত মদিনায়ে মুসতফার অবিসংবাদিত ইমাম আবু আব্দিল্লাহ মালেক বিন আনাস রাদ্বিয়াল্লহু আনহু হচ্ছেন কিংবদন্তী গ্রন্থ 'আল মুওয়াত্তা'র রচয়িতা। এই গ্রন্থটি কিনা ফিকহ ও হাদিসের উপর লিখিত বইগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। যুগে যুগে ইমাম ও আলেমরা এই কিতাবটি মুখস্থ ও চর্চা করে গিয়েছেন। যাদের মাঝে আছেন ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমদ। ইমাম মালেকের জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য, মৃত্যু সবই হয়েছে আল্লাহর রাসুলের হাতে গড়ে তোলা মদিনায়। ইমাম মালেকের মাযহাব তৈরিই হয়েছে মদিনার বাসিন্দা তথা সাহাবিদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের আমল ও রীতিনীতির উপর ভিত্তি করে। ইমাম মালেকের জন্ম ৯৩ হিজরিতে। ওফাত ১৭৯ হিজরিতে।
  5. ইমাম মালেক মদিনার নারীদের যা যা করতে দেখেছেন তা অনুযায়ীই ফতোয়া দিয়েছেন। আজকের আলোচনায় আমরা দেখাব যে
  6. ১ - নারীদের মাহরাম কিংবা গায়র মাহরামের সাথে একই টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়া করতে পারবে
  7. ২ - নারীরা পরপুরুষদের মেহমানদারী করতে পারবে
  8. ৩ - তাদের সামনে চেহারা খোলা রাখতে পারবে
  9. শুরু করা যাক। বিসমিল্লাহ ...
  10. ১। মুয়াত্তা, ইমাম মালেক।
  11. سئل مالك: هل تأكل المرأة مع غير ذي محرم منها أو مع غلامها؟ فقال مالك: ليس بذلك بأس...قال: وقد تأكل المرأة مع زوجها ومع غيره ممن يؤاكله
  12. মালেককে জিজ্ঞেস করা হয়, মেয়েরা কি পরপুরুষ কিংবা সেবক-কর্মচারীদের সাথে বসে খেতে পারবে?
  13. মালেক জবাব দিলেন, কোন সমস্যা নেই। মেয়েরা তাদের স্বামীদের সাথে খেতে পারবে, স্বামীর আপ্যায়নকৃত অতিথিদের সাথেও খেতে পারবে।
  14. ২। আত তাজ ওয়াল ইকলিল রচয়িতা আবুল কাসেম আল আবদারী (৮৯৭হি) ইমাম মালেকের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন,
  15. فيه إباحة إبداء المرأة وجهها ويديها للأجنبي إذ لايتصور الأكل إلا هكذا.
  16. এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, নারী পরপুরুষের সামনে তার চেহারা ও দুই হাত উন্মুক্ত করতে পারবে। কারণ চেহারা ও হাত না খুলে খাওয়া-দাওয়া করার কথা অকল্পনীয়।
  17. ৩। আবু ওয়ালিদ আল বাজি (৪৭৪হি) তার রচিত মুয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেছেন,
  18. قوله: وقد تأكل المرأة مع زوجها ومع غيره ممن يؤاكله.. يقتضي أن نظر الرجل إلي وجه المرأة وكفيها مباح لأن ذلك يبدو منها عند مؤاكلتها.
  19. ইমাম মালেক বলেছেন 'মেয়েরা তাদের স্বামীদের সাথে খেতে পারবে, স্বামীর আপ্যায়নকৃত অতিথিদের সাথেও খেতে পারবে' এই কথার দাবি হচ্ছে যে, পুরুষ নারীদের চেহারা ও দুই হাতের মুঠোর দিকে তাকাতে পারবে, এটা মুবাহ। কেননা একসাথে খাওয়াদাওয়া করলে এটা প্রকাশিত হবেই।
  20. এছাড়াও তিনি বলেছেন,
  21. واستدل أصحابنا في ذلك بقوله تعالى (ولا يبدين زينتهن إلا ما ظهر منها) قالوا: إن الذي يظهر منها الوجه واليدان وعلى ذلك أكثر أهل التفسير).
  22. আমাদের মালেকি আলেমরা এই কথার জন্য দলিল হিসেবে কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে থাকেন 'তারা যেন বাহ্যিকভাবে যা প্রকাশমান তা ব্যতীত কিছু উন্মুক্ত না করে' তারা বলেছেন যে, বাহ্যিকভাবে প্রকাশমান বিষয়গুলো হচ্ছে চেহারা ও দুই হাত। আর এটাই অধিকাংশ মুফাসসিরের অভিমত।
  23. ৪। মালেকি মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ইমাম কাযি ইয়ায (৫৪৪হি) তার ইকমালুল মু'লিম কিতাবে ইমাম মালেকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন,
  24. « وهذا ليس فيه إلا إبداء كفيها ووجهها، وذلك مباح منها النظر إليه لغير تلذذ ومداومة لتأمل المحاسن. قال ابن عباس: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا}، قال: الوجه والكفان، وقاله عطاء . وذكر ابن بكير: أنه قول مالك وغيره
  25. দুই হাতের মুঠো ও চেহারা খোলা রাখার ব্যাপারেই ইমাম মালেকের এই বক্তব্যটি এসেছে। এগুলো খোলা রাখা বৈধ। পুরুষের জন্য চেহারা ও হাতের মুঠোর দিকে তাকানো বৈধ। তবে নিজের লিপ্সা পূরণের জন্য কিংবা সারাক্ষণ তাকিয়ে থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য হলে না। ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লহু আনহু কোরআনের আয়াত 'তারা যেন বাহ্যিকভাবে যা প্রকাশমান তা ব্যতীত কিছু উন্মুক্ত না করে' এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, চেহারা ও দুই হাতের মুঠো। এছাড়াও তাবেয়ি আতা এই তাফসির করেছেন। ইবন বুকাইর উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালেক ও অন্যান্যরাও এই তাফসির করেছেন।
  26. কাযি ইয়ায একই গ্রন্থের কিতাবুল আদাব অধ্যায়ে 'আকস্মিক দৃষ্টিপাত' পরিচ্ছেদে লিখেছেন
  27. (فى هذا كله عند العلماء حجة أنه ليس بواجب أن تستر المرأة وجهها وإنما ذلك استحباب وسنة لها وعلى الرجل غض بصره عنها.... ولا خلاف أن فرض ستر الوجه مما اختص به أزواج النبى صلى الله عليه وسلم منذ نزل الحجاب).
  28. অকস্মাৎ চোখ পড়ে গেলে দৃষ্টি নামিয়ে ফেলার হাদিস থেকে আলেমরা প্রমাণ দিয়েছেন যে, মেয়েদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখা ওয়াজিব না। বরং এটা মুস্তাহাব ও সুন্নত। আর পুরুষের উচিত দৃষ্টিকে সংযত রাখা। আর এই বিষয়ে কোন ভিন্নমত নেই যে, নারীর চেহারা ঢেকে রাখা ফরয এই বিধানটি কেবলমাত্র আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত স্ত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য।
  29. ইবনে হাজার আসকালানি (৭৭৩হি) তার ফাতহুল বারীতে কাযি ইয়াযের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন,
  30. قال بن حجر فى فتح البارى : قال عياض: (خص أزواج النبي صلي الله عليه وسلم بستر الوجه والكفين، واختلف في ندبه في حق غيرهن)
  31. চেহারা ও হাত ঢেকে রাখার বিধান নবীর স্ত্রীদের জন্যই খাস। অন্যান্য নারীদের জন্য এটা করা উত্তম (মানদুব) হবে কিনা এই নিয়ে ইখতেলাফ আছে।
  32. ৫। ইমাম মালেকের ফিকহ সংকলন হয়েছে তার ছাত্রের লেখা মুদাওয়ানাহ গ্রন্থে। যিহারের মাসআলা নিয়ে সাহনুন (২৪০হি) ইমাম মালেককে জিজ্ঞেস করেন এবং ইমাম মালেক উত্তর দেন এই বলে যে, যিহার করলে স্ত্রী স্বামীর জন্য পরনারী হয়ে যায়। (যিহার নিয়ে অন্য কোনদিন কথা হবে)
  33. «ولا يصلح له أن ينظر إلى شعرها ولا إلى صدرها. قال : قلت لمالك: أفينظر إلى وجهها؟ فقال : نعم، وقد ينظر غيره أيضاً إلى وجهها».
  34. ইমাম মালেক বলেন, নারীর চুল কিংবা বুক দেখার কোন সুযোগ তার থাকবে না। সাহনুন প্রশ্ন করেন, চেহারার দিকে তাকাতে পারবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, পারবে। স্বামী ছাড়াও অন্যান্য পুরুষরাও তাকাতে পারবে।
  35. ৬। ইমাম ইবনে বাত্তাল (৪৪৯হি) সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন,
  36. وإذا ثبت أن النظر إلى وجه المرأة لخطبتها حلال خرج بذلك حكمه من حكم العورة.لأنا رأينا ما هو عورة لا يباح لمن أراد نكاحها النظر إليه، ألا ترى أنه من أراد نكاح امرأة فحرام عليه النظر إلى شعرها أو إلى صدرها أو إلى ما أسفل من ذلك من بدنها، كما يحرم ذلك منها على من لم يرد نكاحها، فلما ثبت أن النظر إلى وجهها حلال لمن أراد نكاحها، ثبت أنه حلال أيضًا لمن لم يرد نكاحها.
  37. যেহেতু প্রমাণিত হল যে বিয়ের প্রস্তাব দিতে নারীর চেহারা দিকে তাকানো জায়েয, সেহেতু বোঝা গেল চেহারা নারীর জন্য আওরত (গোপনীয়) নয়। কেননা আমাদের (মাযহাব অনুযায়ী) দেখেছি যে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আওরতের অন্তর্ভূক্ত কিছুর দিকে তাকানো জায়েয নেই। তুমি কি দেখছ না যে বিয়ের প্রস্তাবদাতার জন্য নারীর চুলের দিকে কিংবা তার বুকের দিকে কিংবা শরীরের নিচের কিছু দেখা হারাম? বিয়ের প্রস্তাব যে দিবে না তার জন্যও এটা হারাম, যে দিবে তার জন্যও হারাম। সুতরাং যেহেতু প্রমাণ হল যে, বিয়ের প্রস্তাব দিতে গেলে চেহারার দিকে তাকানো জায়েয, সেহেতু যারা বিয়েতে আগ্রহী না তাদের জন্যও চেহারা দেখা জায়েয।
  38. ৭। ইমাম ইবনু আব্দিল বার (৪৬৩হি) তার 'আত তামহিদ' কিতাবে বলেন,
  39. وجائز أن ينظر إلى الوجه والكفين منها كل من نظر إليها بغير ريبة ولا مكروه، وأما النظر للشهوة فحرام تأملها من فوق ثيابها بالشهوة فكيف بالنظر إلى وجهها مسفرة
  40. নিঃসন্দেহে যে কারো জন্য নারীর চেহারা ও দুই হাতের দিকে তাকানো জায়েয, এটা মাকরুহ না। অন্যথায় যদি কামলিপ্সার চোখে তাকায় তবে নারীর পোশাকের দিকে তাকানোও তার জন্য হারাম, খোলা চেহারার দিকে তাকানো তো দুরের বিষয়।
  41. ৮। ইবনুল কাত্তান (৬২৮হি) তার 'আহকামুন নাযার' গ্রন্থে বলেন,
  42. وقد قدمنا أنه جائز للمرأة إبداء وجهها وكفيها، فالنظر إلى ذلك جائز، لكن بشرط أن لا يخاف الفتنة، وأن لا يقصد اللذة، وأما إذا قصد اللذة ، فلا نزاع في التحريم).
  43. আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি যে নারীর জন্য চেহারা ও দুই হাত খোলা রাখা জায়েয। তবে শর্ত হল ফিতনার আশঙ্কা থাকবে না, কামলিপ্সা চরিতার্থ করার নিয়ত থাকবে না। যদি লিপ্সা থাকে, তবে তাকানো যে হারাম হবে এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।
  44. ৯। কাযি আবু বকর ইবনুল আরাবি (৫৪৩হি) তার তাফসির গ্রন্থে 'তারা যেন সৌন্দর্য প্রকাশ না করে বাহ্যিকভাবে যা প্রকাশমান তা বাদে' আয়াতের ব্যাখ্যা বলেন,
  45. واختلف في الزينة الظاهرة علي ثلاثة أقوال:
  46. الأول: أنها الثياب...
  47. الثاني: الكحل والخاتم ...
  48. الثالث: أنه الوجه والكفان. وهو والقول الثاني بمعني , لأن الكحل والخاتم في الوجه والكفين... والصحيح أنها من كل وجه هي التي في الوجه والكفين , فإنها تظهر في الصلاة , وفي الإحرام عبادة , وهي التي تظهر عادة ).
  49. মুফাসসিরদের তিনটি মত পাওয়া যায়। ক) নারীর পোশাক, খ) আংটি ও কাজল, গ) চেহারা ও দুই হাতের মুঠো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মত মূলত একই মত কারণ কাজল তাকে চেহারায় আর আংটি থাকে হাতে।সবদিক বিবেচনায় বিশুদ্ধ মতটি হচ্ছে 'হাত ও দুই হাতের মুঠো' এই মতটি। কেননা এটি নামাযে খোলা থাকে, ইহরাম করলে ইবাদত হিসেবে খোলা রাখতে হয়, আর স্বাভাবিক অবস্থাতেও এগুলো খোলা থাকে।
  50. قال الإمام عبد الرحمن شهاب الدين البغدادي (ت سنة 732هـ)في إرشاد السالك إلى أَشرف المسالك في فقه الإمَامِ مَالِك : ( ستر العورة شرط (أى فى الصلاة) ... والحرةكلها عورة إلا وجهها وكفيها والساتر الحصيف لا الشاف).
  51. ১০। আল্লামা দারদির (১২০১হি) তার শরহে সগির কিতাবে বলেন,
  52. وعورة الحرة مع رجل أجنبي منها-أي ليس محرم لها- جميع البدن غير الوجه والكفين , وأما هما فليسا عورة
  53. "পরপুরুষের সামনে মেয়েদের আওরত হল সারা শরীর তবে চেহারা ও দুই হাতের মুঠো বাদে। কেননা এই দুটো গোপনীয় বিষয় নয়।"
Advertisement
Add Comment
Please, Sign In to add comment