Not a member of Pastebin yet?
Sign Up,
it unlocks many cool features!
- ইসলামে কোন ইউনিফর্ম নেই। সমাজের মানুষ সতর ঢেকে যেধরণের পোশাকই পরবে তাই ইসলামসম্মত। পাঞ্জাবি-পায়জামার নামে যে কালচার আমাদের উপমহাদেশে তৈরি হয়েছে তা একটি নিকৃষ্ট বিদআত। কেননা এখানে এমন একটি কাজকে ধর্মের অংশ মনে করা হচ্ছে যা অকাট্যভাবেই ধর্মের অংশ নয়। মূলত এই ইউনিফর্ম কালচারের মাধ্যমে মোল্লাতন্ত্রের কুশীলবরা নিজেদেরকে স্পেশাল ও প্রকৃত মুসলিম বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং সমাজের মানুষ থেকে ভিন্ন এক এলিট কাল্টের সদস্য হিসেবে নিজেদের জাহির করতে চান। যেই কাল্টের মেম্বার হতে হলে আপনাকে একটা নির্দিষ্ট ড্রেসকোড ফলো করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু রিচুয়াল মেইনটেইন করতে হবে। এই অশুভ মানসিকতার দ্রুত অবসান ঘটবে এটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি।
- সহিহুল বুখারিতে ইবনে আব্বাসের সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,
- كل ما شئت ، والبس ما شئت ، ما أخطأتك اثنتان : سرف ومخيلة
- তোমার যা ইচ্ছা হয় খাও, যা ইচ্ছা হয় পরিধান কর যতক্ষণ তোমাকে অপচয় ও অহংকারের ভ্রান্তি গ্রাস না করে।
- শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যাহ বলেছেন,
- وليس لأولياء الله شيء يتميزون به عن الناس في الظاهر من الأمور المباحات فلا يتميزون بلباس دون لباس إذا كان كلاهما مباحاً، ولا بحلق شعر أو تقصيره أو ظفره إذا كان مباحاً، كما قيل: كم من صديق في قباء وكم من زنديق في عباء
- "বৈধ বিষয়াবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহর ওলিদের এমন কোন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নেই যার মাধ্যমে তারা বাহ্যিকভাবে অন্যান্য মানুষ থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করে থাকে। অর্থাৎ তাদের এমন কোন বিশেষ পোশাক নেই যেটা তারা অন্যান্য পোশাকের পরিবর্তে পরিধান করে, যখন এই সবগুলো পোশাকই বৈধ হয়। তারা চুল মুণ্ডন করে কিংবা ছোট করে কিংবা ঝুঁটি করেও অন্যান্য মানুষ থেকে ভিন্নতা গ্রহণ করেন না, যখন এই সবগুলো পদ্ধতিই বৈধ। প্রবাদে আছে : "আছে কত সিদ্দিক কোবার আড়ালে, আছে কত যিন্দিক আবায়ার মোড়কে।"
- তিনি আরো বলেন,
- وكذلك اللباس كان يلبس القميص والعمامة ويلبس الإزار والرداء ويلبس الجبة والفروج وكان يلبس من القطن والصوف وغير ذلك . لبس في السفر جبة صوف وكان يلبس مما يجلب من اليمن وغيرها وغالب ذلك مصنوع من القطن وكانوا يلبسون من قباطي مصر وهي منسوجة من الكتان . فسنته في ذلك تقتضي أن يلبس الرجل ويطعم مما يسره الله ببلده من الطعام واللباس . وهذا يتنوع بتنوع الأمصار .
- "পোশাকের ক্ষেত্রেও নবির এই আদর্শ ছিল। তিনি কামিস পরেছেন, পাগড়ি পরেছেন। লুঙ্গি পরেছেন, চাঁদর পরেছেন। তিনি জুব্বা পরেছেন। ফাররুজ পরেছেন। পশমের পোশাক পরেছেন। তুলার তৈরি কাপড় পরেছেন। সফরে তিনি পশমি জোব্বা পরেছেন। ইয়েমেন ও অন্যান্য দেশ থেকে নিয়ে আসা পোশাক তিনি পরতেন। এর অধিকাংশই ছিল তুলার তৈরি। সাহাবিরা মিসরের কপ্টিকদের বিশেষ পোশাকও পরেছেন। যা ছিল কাত্তান খচিত।
- সুতরাং পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, একজন ব্যক্তি তার দেশের প্রচলিত ও সহজলভ্য পোশাক ও খাদ্য ব্যবহার করবে। আর এটা একেক দেশে একেকরকম হবে।"
- হাম্বলি মাযহাবের নির্ভরকৃত গ্রন্থ 'কাশশাফুল ক্বিনা' তে বলা হয়েছে,
- (وَيُكْرَهُ لُبْسُ مَا فِيهِ شُهْرَةٌ) أَيْ: مَا يَشْتَهِرُ بِهِ عِنْدَ النَّاسِ وَيُشَارُ إلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ، لِئَلَّا يَكُونَ ذَلِكَ سَبَبًا إلَى حَمْلِهِمْ عَلَى غِيبَتِهِ، فَيُشَارِكُهُمْ فِي إثْمِ الْغِيبَةِ. (وَيَدْخُلُ فِيهِ) أَيْ: فِي ثَوْبِ الشُّهْرَةِ (خِلَافُ) زِيّهِ (الْمُعْتَادِ
- "প্রসিদ্ধি লাভের পোশাক পরা মাকরুহ। অর্থাৎ এমন কোন পোশাক পরা যা পরলে মানুষের মাঝে তার খ্যাতি তৈরি হয় এবং লোকে তাকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে। কেননা এমন ব্যতিক্রমী পোশাক পরিধান করার ফলে মানুষ তাকে নিয়ে গীবত শুরু করবে আর সেই এই পোশাক পরে মানুষকে গীবতে প্ররোচিত করে গীবতের গুনাহে শরিক হবে। একই হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হবে সে ব্যক্তি যে তার অঞ্চলের লোকদের প্রচলিত পোশাকের বিপরীত পোশাক পরিধান করে।"
- আল মাওসুয়াতুল কুয়েতিয়্যাহ ফিকহ বিশ্বকোষে বলা হয়েছে,
- لبس الألبسة الّتي تخالف عادات النّاس مكروه لما فيه من شهرةٍ، أي ما يشتهر به عند النّاس ويشار إليه بالأصابع
- "সমাজের মানুষের প্রথা-প্রচলনের বিপরীত পোশাক পরিধান করা মাকরুহ কেননা এর মাধ্যমে প্রসিদ্ধি অর্জন হয় অর্থাৎ মানুষের মাঝে তার প্রসিদ্ধি তৈরি হয় এবং লোকজন দূর থেকে তার দিকে আঙ্গুল তাক করে।"
- নবিয়ে করিম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই লোকদের ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন,
- «مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
- "যে ব্যক্তি প্রসিদ্ধির পোশাক পরবে আল্লাহ তাকে রোজ কেয়ামতে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন।" আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজা ইবনে ওমরের সুত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি হাসান।
- وَكَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ: إنَّ قَوْمًا جَعَلُوا خُشُوعَهُمْ فِي اللِّبَاسِ، وَشَهَرُوا أَنْفُسَهُمْ بِلِبَاسِ الصُّوفِ، حَتَّى أَنَّ أَحَدَهُمْ بِمَا يَلْبَسُ مِنْ الصُّوفِ أَعْظَمُ كِبْرًا مِنْ صَاحِبِ الْمُطرفِ بِمُطرفِهِ.
- "হাসান বসরি বলেছেন, এক দল লোক তৈরি হয়েছে যারা তাদের খুশু-খুযুকে পোশাকে সীমিত করেছে, পশমি পোশাক পরে মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি তৈরি করেছে। রেশমি চাঁদর পরেও মানুষ এতটা অহংকারী হয় না যতটা অহংকারী পশমি পোশাক পরা এই লোকগুলোর একেকটা হয়।" (ইবনে আবিদ দুনিয়া, আত তাওয়াদ্বউ ওয়াল খুমুল)
- وَقَالَ ابْنُ رُشْدٍ الْمَالِكِيُّ: كَانَ الْعِلْمُ فِي صُدُورِ الرِّجَالِ فَانْتَقَلَ إلَى جُلُودِ الضَّأْنِ قُلْتُ: وَالْآنَ إلَى جُلُودِ السَّمُّورِ
- "ইবনে রুশদ আল মালেকি বলেন, ইলম একসময় মানুষের অন্তরে ছিল, এখন সেটা গিয়ে ঠেকেছে ভেড়ার চামড়ায়। ইমাম বুহুতী বলেন, আর আমাদের যুগে গিয়ে ঠেকেছে নকুলের চামড়ায়।"
- কাশশাফ আল ক্বিনা'তে আরো বলা হয়েছে,
- (وَيُكْرَهُ) لُبْسُ (خِلَافِ زِيِّ) أَهْلِ (بَلَدِهِ وَ) لُبْسُ (مُزْرٍ بِهِ) لِأَنَّهُ مِنْ الشُّهْرَةِ (فَإِنْ قَصَدَ بِهِ الِارْتِفَاعَ وَإِظْهَارَ التَّوَاضُعِ حَرُمَ لِأَنَّهُ رِيَاءٌ)
- "দেশের প্রচলিত পোশাকের বিপরীত পোশাক পরা মাকরুহ। ছেঁড়াফাটা পোশাক পরাও মাকরুহ। কেননা এগুলোর মাধ্যমে প্রসিদ্ধি অর্জন হয়। কিন্তু যদি এসব পরিধানের মাধ্যমে সম্মান লাভের চেষ্টা করে কিংবা নিজেকে বিনয়ী হিসেবে জাহের করার নিয়ত থাকে, তবে এটি হারাম কাজ। কেননা এটি রিয়া বা লোকদেখানো।"
- আধুনিক পোশাক পরা এবং প্রাচীন পোশাক পরিত্যাগ করার বিধান।
- ইমাম ইবনে আবিদ দুনিয়া তার 'আত তাওয়াদ্বু ওয়াল খুমুল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন,
- عن عدي بن الفضل قال : قال لي أيوب :
- " اُحْذُ نعلين على نحو حذو نعل رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال : ففعلت ، فلبسها أياما ثم تركها ، فقلت له في ذلك فقال : لم أر الناس يلبسونها
- "আদী বিন ফযল বলেন, আমাকে তাবেয়ী আইউব সুখতিয়ানি বললেন, রাসুল যেভাবে স্যান্ডেল পরতেন সেভাবেই স্যান্ডেল পর। আমি তার কথামত কাজ করলাম। কিছুদিন পর আইউবকে দেখলাম যে তিনি এভাবে স্যান্ডেল পরা ছেড়ে দিয়েছেন। আমি এই বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি এভাবে আর কাউকে পরতে দেখি নি।"
- মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাতে বর্ণিত আছে,
- وعن الحصين قال : كان زبيد اليامي يلبس برنسا ، قال : فسمعت إبراهيم النخعي عابه عليه ، قال : فقلت له : إن الناس كانوا يلبسونها ، قال : أجل ! ولكن قد فني من كان يلبسها ، فإن لبسها أحد اليوم شهروه وأشاروا إليه بالاصابع .
- "হুসাইন বলেন, যায়দ আল-ইয়ামী বুরনুস (হুডিবিশিষ্ট আলখেল্লা) পরতেন। আমি একদিন তাবেয়ি ইব্রাহিম নাখয়িকে শুনলাম তার এই বিষয়টিকে সমালোচনা করছেন। আমি বললাম, সাহাবিদের সময়কার মানুষজন তো এই পোশাক পরত। ইব্রাহিম বললেন, তা ঠিক। কিন্তু যারা এই পোশাক পরত তারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। আজ যদি কেউ এই পোশাক পরিধান করে তবে সে প্রসিদ্ধি লাভ করবে এবং মানুষ তার দিকে আঙ্গুল তাক করবে।"
- উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এককথায় যেসব পরিবেশে জুব্বা, টুপি, পাঞ্জাবি, কোর্তা পরার প্রচলন নেই, সেখানে এই জাতীয় পোশাক পরা মাকরুহ। কেউ যদি নিজেকে জাহের করার জন্য এই ধরণের পোশাক পরে তবে এটি হারাম।
- আরো স্পষ্ট হল যে, জুব্বা ও পাঞ্জাবির যে ইউনিফর্ম আমাদের দেশের "হুজুর সম্প্রদায়" চালু করে রেখেছেন সেটা রাসুলের সুন্নাতের খেলাফ কারণ সমাজের মানুষ ধর্মীয় উৎসব ও অনুসর্গ ছাড়া এই পোশাকগুলো পরে না। তবে মাদ্রাসার শিক্ষাকক্ষে কিংবা মসজিদের খুতবা প্রদানের সময় যেহেতু এই পোশাক পরা রীতিতে পরিণত হয়েছে, তাই এই সকল স্থানে এই পোশাকগুলো বজায় রাখাই সমীচীন।
Advertisement
Add Comment
Please, Sign In to add comment