SheikSadi

নাটক সিনেমা

Dec 10th, 2021
63
0
Never
Not a member of Pastebin yet? Sign Up, it unlocks many cool features!
text 31.99 KB | None | 0 0
  1. নাটক-সিনেমা দেখা
  2.  
  3. নাটক-সিনেমা নিয়ে কথা বলার আগে বুঝতে হবে এটা কী জিনিস। কারণ যেকোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছার পূর্বে আমাদেরকে সে বিষয়ের বাস্তবতা সম্পর্কে সর্বপ্রথম অবগত হতে হবে। উসুলি ভাষায় الحكم على الشيء فرع عن تصوره . যদি আমরা কোন বিষয়ের প্রকৃতি ও বাস্তবতা সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা রাখি, তবে সেই বিষয়ের উপর আরোপিত সিদ্ধান্ত ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য। নাটক-সিনেমা আসলে কী জিনিস? এর সংজ্ঞা কী?
  4.  
  5. কোন জিনিসের সংজ্ঞা জানার একটি কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে সেই বিষয়টি নেসেসারি কন্ডিশন বা অত্যাবশ্যক শর্তগুলো খুঁজে বের করা। অর্থাৎ কোন একটা কিছুকে সিনেমা ডাকতে হলে কোন কোন শর্ত বা বিষয়গুলো অত্যাবশ্যকভাবে থাকতে হবে সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, কোন বিষয়গুলো সিনেমা হিসেবে সংজ্ঞায়িত হবার জন্য অপরিহার্য না।
  6.  
  7. উইকিপিডিয়ার ভাষ্যমতে ফিল্ম, যা মুভি হচ্ছে একটি ভিজুয়াল আর্টের নাম যাতে গতিশীল ছবি ও শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে দর্শকের মনে কৃত্রিমভাবে এমন অভিজ্ঞতা উদ্রেক করে তার কাছে বিভিন্ন আইডিয়া, গল্প, অনুভূতি, আবেগ, সৌন্দর্য কিংবা আবহ পৌঁছানো হয়।
  8. এই সংজ্ঞা থেকে দেখা যাচ্ছে মুভি বা ফিল্ম হিসেবে আখ্যায়িত হবার জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো থাকা আবশ্যক।
  9.  
  10. - গতিশীল ছবি বা ভিডিও।
  11. - অডিও।
  12. - অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে দর্শককে কোন আইডিয়া দেয়া বা গল্প বলা।
  13.  
  14. আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা নাটক-সিনেমার নাম শুনলেই অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কিছু মুভির কথা মাথায় নিয়ে আসি, আর সে অনুযায়ী তাড়াহুড়ো করে একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে বসি। ইমাম শাফেয়ী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু কবিতার ব্যাপারে বলেছিলেন, الشعر كلام فحسنه حسن وقبيحه قبيح “কবিতা হচ্ছে কথা। সুতরাং কথাগুলো ভাল হলে কবিতা ভাল, কথাগুলো খারাপ হলে কবিতা খারাপ।” এই সুত্র ধরেই বলা যায় “মুভি হল দৃশ্য ও শব্দ। যদি দৃশ্য ও শব্দগুলো যদি ভাল হয় তবে মুভি ভাল হবে। আর ওটা খারাপ হলে এটাও খারাপ হবে।”
  15.  
  16. তো এতটুকু কথা বলার পর আমাদের চিন্তা করা উচিত যে, দৃশ্য বা শব্দের ভালো-খারাপ আমরা কীভাবে বিচার করব? বর্তমান সময়ে নির্মিত মুভিগুলোতে মিউজিক থাকবে এবং সেখানে বেপর্দা নারীদেরও দেখা যাবে। এই দুটো বিষয় অ্যাড্রেস করা উচিত। তারো আগে বলা উচিত আমার এই লেখাটা কাদের জন্য। আমি এই লেখাটা এমন মানুষের জন্য লিখছি যারা মুভি দেখে অভ্যস্ত, কিন্তু মুভি দেখা হারাম এমন ব্ল্যাঙ্কেট ফতোয়া শুনে যারা অস্বস্তিতে থাকেন। কারণ তাদের কাছে হয়ত এই ফতোয়াটা দ্বীন-ধর্মের সামগ্রিক আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না। এছাড়াও তাদের জন্য লিখছি যারা মুভি দেখেন প্রচণ্ড পাপবোধ নিয়ে। যে পাপবোধ তাদেরকে দিনদিন ধর্ম থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। যারা মুভি কিংবা মিউজিক থেকে দূরে আছেন, তাদেরকে মুভি কিংবা মিউজিকে অভ্যস্ত করা আমার লক্ষ্য না। ওলামাদের ইখতেলাফ উম্মতের জন্য রহমতস্বরূপ। কারণ সবার পরিস্থিতি একরকম নয়, তাই সবার জন্য এক জাতীয় ফতোয়া উপযোগী নয়।
  17.  
  18. মাজমুউল ফাতাওয়া-তে ইবনে তায়মিয়্যাহ বলেন,
  19.  
  20. وصنف رجل كتابا في الاختلاف فقال أحمد : لا تسمه " كتاب الاختلاف " ولكن سمه " كتاب السعة " . ولهذا كان بعض العلماء يقول : إجماعهم حجة قاطعة واختلافهم رحمة واسعة . وكان عمر بن عبد العزيز يقول : ما يسرني أن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يختلفوا ; لأنهم إذا اجتمعوا على قول فخالفهم رجل كان ضالا وإذا اختلفوا فأخذ رجل بقول هذا ورجل بقول هذا كان في الأمر سعة . وكذلك قال غير مالك من الأئمة : ليس للفقيه أن يحمل الناس على مذهبه . ولهذا قال العلماء المصنفون في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أصحاب الشافعي وغيره : إن مثل هذه المسائل الاجتهادية لا تنكر باليد وليس لأحد أن يلزم الناس باتباعه فيها ; ولكن يتكلم فيها بالحجج العلمية فمن تبين له صحة أحد القولين تبعه ومن قلد أهل القول الآخر فلا إنكار عليه .
  21.  
  22. “এক ব্যক্তি আলেমদের মতভেদ নিয়ে একটি বই লিখে ইমাম আহমদের কাছে নিয়ে আসে। ইমাম আহমদ বলেন, একে “মতভেদের বই” নাম দিও না, নাম দাও “প্রশস্ততার বই”। একারণেই আলেমদের অনেকে বলতেন, আলেমদের ঐকমত্য হল অকাট্য ও সুস্পষ্ট প্রমাণ, আর তাদের মতভেদ হচ্ছে রহমত ও প্রশস্ততা। ওমর বিন আব্দুল আযীয বলতেন, রাসুলের সাহাবিদের মাঝে মতপার্থক্য না হলে আমি খুশি হতাম না। কারণ তারা যদি কোন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে যান সেই বিষয়ে কেউ তাদের বিরোধিতা করলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের যদি একাধিক মত থাকে এবং এক ব্যক্তি একটি মত গ্রহণ করে এবং অন্য ব্যক্তি অন্য মত গ্রহণ করে তবে এই বিষয়ে তাদের প্রশস্ততা বা সুযোগ থাকবে। ইমাম মালেক সহ অন্যান্যরা বলেছেন, কোন ফকিহ আলেমের অধিকার নেই মানুষকে তার নিজস্ব মত মানতে বাধ্য করার। শাফেয়ী ও অন্যান্য মাযহাবের আলেমরা ‘সৎ কাজে আদেশ, অসৎ কাজে নিষেধ’ বিষয়ক বইপত্রে লিখেছেন, এই ইজতিহাদি বিষয়গুলোতে গায়ের জোর খাটিয়ে কারো উপর নিন্দা-আপত্তি করা যাবে না। কারোই এই অধিকার নেই যে মানুষকে একটি মত মেনে নিতে বাধ্য করার। বরং কর্তব্য হচ্ছে ইলমি যুক্তিপ্রমাণসহ কথাবার্তা বলা। অতঃপর যার কাছে যে মতটি শুদ্ধ বলে প্রতীয়মান হবে সে সেই মতটি মেনে চলবে। আর এক মতের মুকাল্লিদ কখনোই অন্য মতের মুকাল্লিদের উপর আপত্তি জানাতে পারবে না।”
  23.  
  24. মিউজিকের বিষয়টা গেল। এবার আশা যাক, মুভিতে যে নারীদের বেপর্দা অবস্থায় দেখা যায় এই বিষয়ে।
  25.  
  26. প্রথমত আমাদের বোঝা উচিত পর্দার বিধান কেন নাযিল হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের পাঁচটি লক্ষ্য বা মাকসাদ রয়েছে - এর মধ্যে একটি হচ্ছে সম্মান ও বংশ পরিক্রমার সংরক্ষণ। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য আল্লাহ ব্যাভিচারকে নিষিদ্ধ করেছেন। কারণ ব্যভিচার পরিবার ধ্বংস করে, ফলে বংশ পরিক্রমা ও সম্মান রক্ষার লক্ষ্য ব্যহত হয়। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا “তোমরা ব্যাভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীলতা এবং বিপথগামিতা।” যিনা-ব্যভিচার নিষিদ্ধকারী আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে মক্কাতে। আমাদের বোঝা উচিত যিনা-ব্যভিচার প্রতিরোধ করার জন্য পর্দা করা অপরিহার্য না। কারণ সর্বসম্মত মূলনীতি হচ্ছে ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب “একটি ওয়াজিব দায়িত্ব আদায় করার জন্য যদি অন্য আরেকটি কাজ করা অপরিহার্য হয়, তবে সেই কাজটি করাও ওয়াজিব” যেমন - সাধারণ ওযু করা না করা আপনার ইচ্ছা। কিন্তু ওযু না করলে যেহেতু শরীর পাক হয় না, আর শরীর পাক না হলে যেহেতু নামায আদায় করা যায় না। তাই নামাযের ওয়াজিব দায়িত্ব আদায় করার জন্য ওযু করাও ওয়াজিব। একই যুক্তিতে বলা যায়, যিনা প্রতিরোধ করতে যদি হিজাব করা অপরিহার্য হত তবে হিজাব ফরযের আয়াত এক দশক পর মদিনাতে (হিজরতের পঞ্চম বৎসর) নাযিল না হয়ে যিনা নিষিদ্ধ হবার সাথেসাথেই নাযিল হয়ে যেত। সুতরাং এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, পর্দার বিধান ফরয হয়েছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক্সট্রা প্রটেকশন বা সাদ্দুয যারিয়াহ হিসেবে।
  27.  
  28. এই আলাপটা কেন প্রয়োজনীয়? কারণ ইসলামি শরিয়তে সকল নারীর উপর পর্দা (খিমার, জিলবাব) ফরয করা হয় নি। যেসব নারীর বিয়ের বয়স পাড় হয়ে গেছে তাদের জন্য পর্দার কড়াকড়ি নেই। দাসী-বাদীদের জন্য নেই। ইমাম ইবনে কুদামা বলেন,
  29.  
  30. وصلاة الأمة مكشوفة الرأس جائزة هذا قول عامة أهل العلم . لا نعلم أحدا خالف في هذا إلا الحسن , فإنه من بين أهل العلم أوجب عليها الخمار إذا تزوجت, أو اتخذها الرجل لنفسه, واستحب لها عطاء أن تقنع إذا صلت , ولم يوجبه . ولنا , أن عمر رضي الله عنه ضرب أمة لآل أنس رآها متقنعة , وقال: اكشفي رأسك, ولا تشبهي بالحرائر . وهذا يدل على أن هذا كان مشهورا بين الصحابة لا ينكر , حتى أنكر عمر مخالفته كان ينهى الإماء عن التقنع . قال أبو قلابة : إن عمر بن الخطاب كان لا يدع أمة تقنع في خلافته, وقال : إنما القناع للحرائر
  31.  
  32. “দাসীদের জন্য খোলা মাথায় নামায পড়া জায়েয। এটাই আলেমদের সর্বসাধারণের মত। আমরা এই বিষয়ে হাসান বসরি ব্যতীত কারো মতভেদের কথা জানি না। তিনি বিবাহিত দাসী কিংবা কোন পুরুষের ব্যক্তিগত দাসীর উপর খিমার পরা ওয়াজিব বলেছেন। আত্বা বলেছেন, মাথা ঢেকে নামায পড়া দাসীর জন্য মুস্তাহাব, তবে ওয়াজিব না। তবে আমাদের দলিল হচ্ছে, ওমর (রাঃ) আনাস পরিবারের এক দাসীকে সাজা দিয়েছিলেন তাকে মাথা ঢেকে রাখতে দেখে এবং বলেছিলেন, মাথা খোলা রাখবে! স্বাধীন নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে না। এ থেকে বোঝা গেল, দাসীদের মাথা খোলা রাখা সাহাবিদের যুগে প্রসিদ্ধ বিষয় ছিল, কোন আপত্তিকর বিষয় ছিল না। বরঞ্চ কোন দাসীকে মাথা ঢেকে রাখতে দেখলে ওমর আপত্তি করতেন। আবু কিলাবাহ বলেন, ওমরের খিলাফতকালে তিনি কোন দাসীকে মাথা ঢেকে রাখতে দিতেন না। আর বলতেন, মাথা ঢেকে রাখবে কেবল স্বাধীন নারীরা।”
  33.  
  34. স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগবে দাসীদের ক্ষেত্রে এই ব্যতিক্রম করার কারণ কী ছিল? উত্তর - আর্থসামাজিক পরিস্থিতি। সাহাবিদের যুগে দাসী-বাদীদের সাথে সচরাচর কেউ যিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হত না। তাই ফিতনার আশঙ্কা না থাকায় তাদের জন্য শরিয়ত পর্দার হুকুম আরোপ করে নি। কিন্তু কোন দাসী যদি সুন্দরী ও আকর্ষণীয়া হয়, তবে ফিতনার আশংকা থেকে তাকেও পর্দা করতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ফিতনা মানে কী? উত্তর - ব্যভিচারে লিপ্ত হবার সম্ভাবনা। ফুকারা লিখেছেন, ফিতনা অর্থ هِيَ مَيْلُ النَّفْسِ وَدُعَاؤُهَا إلَى الْجِمَاعِ أَوْ مُقَدِّمَاتِهِ “সহবাস ও এর পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের প্রতি মনের ঝোঁক তৈরি হওয়া।”
  35.  
  36. তো এই আলোচনার সাথে মুভিতে বেপর্দা নারী দেখার রিলেশন কোথায়?
  37.  
  38. ১ - মুভিতে আমরা কোন মানুষ দেখি না, দেখি মানুষের ছবি। ছবির সাথে সহবাস করা অসম্ভব। তাই ফিতনার আশঙ্কার প্রশ্নই এখানে আসে না।
  39.  
  40. ২ - ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্টভাষায় লিখেছেন যে, আয়না কিংবা পানিতে কোন নারীর প্রতিবিম্ব দেখা আর তাকে সরাসরি দেখার হুকুম সমান নয়। আমি হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের বইপত্র থেকে অনেকগুলো বক্তব্য আনতে পারব। কিন্তু সংক্ষিপ্ত রাখার জন্য কেবল তিনটি উদ্ধৃতি দিচ্ছি।
  41.  
  42. (ক) ইবনে কুদামা আল মুগনীতে বলেন,
  43.  
  44. فإن قال: إن رأيت أباك، فأنت طالق. فرأته ميتا، أو نائما، أو مغمى عليه، أو رأته من خلف ‌زجاج، أو جسم شفاف، طلقت؛ لأنها رأته، وإن رأت خياله في ماء، أو مرآة، أو صورته على حائط، أو غيره، لم تطلق؛ لأنها لم تره
  45.  
  46. "স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে ফেলে, তোমার বাবাকে দেখলে তুমি তালাক, এরপর সেই নারী তার বাবাবে মৃত, ঘুমন্ত , অজ্ঞান অথবা কাঁচ কিংবা স্বচ্ছ কোন বস্তুর মধ্য দিয়ে দেখে, তবে তালাক ঘটে যাবে। কারণ সে তার বাবাকে আসলেই দেখেছে। কিন্তু যদি সে পানি কিংবা আয়নাতে বাবার ছবি দেখে অথবা দেক্যালে তার ছায়া দেখে তবে তালাক ঘটবে না, কারণ সে আসলে তাকে দেখে নি।"
  47.  
  48. অর্থাৎ সরাসরি কাউকে দেখার হুকুম আর তার ছবি দেখার হুকুম সমান না।
  49.  
  50. (খ) ইবনে হাজার নিহায়াতুল মুহতাজে বলেন,
  51.  
  52. قوله عَوْرَةِ حُرَّةٍ : ‌خَرَجَ ‌مِثَالُهَا ‌فَلَا ‌يَحْرُمُ ‌نَظَرُهُ ‌فِي ‌نَحْوِ ‌مِرْآةٍ كَمَا أَفْتَى بِهِ غَيْرُ وَاحِدٍ وَيُؤَيِّدُهُ قَوْلُهُمْ لَوْ عَلَّقَ الطَّلَاقَ بِرُؤْيَتِهَا لَمْ يَحْنَثْ بِرُؤْيَةِ خَيَالِهَا فِي نَحْوِ مِرْآةٍ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَرَهَا وَمَحَلُّ ذَلِكَ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ حَيْثُ لَمْ يَخْشَ فِتْنَةً وَلَا شَهْوَةً وَلَيْسَ مِنْهَا الصَّوْتُ فَلَا يَحْرُمُ سَمَاعُهُ إلَّا إنْ خَشِيَ مِنْهُ فِتْنَةٌ
  53.  
  54. “নারীর আওরাত হিসেবে তার মেছাল (সাদৃশ্যপূর্ণ অন্য বস্তু) অন্তর্ভূক্ত না। তাই যদি আয়নাতে একে দেখে তবে এটা হারাম না। একাধিক সংখ্যক আলেম এই ফতোয়া দিয়েছেন। এটার পক্ষে রয়েছে ফুকাহাদের এই বক্তব্য যে, যদি কোন নারীকে দেখলে তালাক হবে এমন শর্ত কেউ আরোপ করে, তাহলে আয়নাতে তার প্রতিবিম্ব দেখলে শর্ত ভঙ্গের মাধ্যমে তালাক ঘটবে না। কারণ সে মূলত তাকে দেখে নি। তবে এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য হচ্ছে ফিতনা কিংবা শাহওয়াতের আশঙ্কা অনুপস্থিত থাকা, এটাই আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয়। একইভাবে নারীর কণ্ঠস্বরও আওরাতের অন্তর্ভূক্ত নয়, তাই ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে তা শোনা হারাম না।”
  55.  
  56. তৃতীয় বক্তব্যটি নিয়ে আলোচনার পূর্বে হানাফি মাযহাবের বিশেষ বিধান হুরমতে মুসাহারা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। হানাফিদের মতে কোন পুরুষ যদি কামোত্তেজনার সাথে কোন নারীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকায় তবে সেই নারীর পরিবারের ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য শ্বশুরালয়ের বিধান স্থাপন হবে। যেমন : যেভাবে কোন নারীর সাথে ব্যভিচার করলে সে নারীর মা কিংবা কন্যাকে বিয়ে করা পুরুষের জন্য হারাম হয়ে যায়, সেই একই বিধান এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আমাদের মূল আলোচনা এই প্রসঙ্গে নয়, তাই এটা নিয়ে আমাকে কেউ প্রশ্ন করবেন না।
  57.  
  58. (গ) ইবনে আবেদীন রদ্দুল মুহতারে বলেন,
  59.  
  60. وَقَدْ صَرَّحُوا فِي ‌حُرْمَةِ ‌الْمُصَاهَرَةِ بِأَنَّهَا لَا تَثْبُتُ بِرُؤْيَةِ فَرْجٍ مِنْ مِرْآةٍ أَوْ مَاءٍ، لِأَنَّ الْمَرْئِيَّ مِثَالُهُ لَا عَيْنُهُ، بِخِلَافِ مَا لَوْ نَظَرَ مِنْ زُجَاجٍ أَوْ مَاءٍ هِيَ فِيهِ لِأَنَّ الْبَصَرَ يَنْفُذُ فِي ‌الزُّجَاجِ وَالْمَاءِ، فَيَرَى مَا فِيهِ وَمُفَادُ هَذَا أَنَّهُ لَا يَحْرُمُ نَظَرُ الْأَجْنَبِيَّةِ مِنْ الْمِرْآةِ أَوْ الْمَاءِ، إلَّا أَنْ يُفَرَّقَ بِأَنَّ ‌حُرْمَةَ ‌الْمُصَاهَرَةِ بِالنَّظَرِ وَنَحْوِهِ شُدِّدَ فِي شُرُوطِهَا، لِأَنَّ الْأَصْلَ فِيهَا الْحِلُّ، بِخِلَافِ النَّظَرِ لِأَنَّهُ إنَّمَا مُنِعَ مِنْهُ خَشْيَةَ الْفِتْنَةِ وَالشَّهْوَةِ، وَذَلِكَ مَوْجُودٌ هُنَا وَرَأَيْت فِي فَتَاوَى ابْنِ حَجَرٍ مِنْ الشَّافِعِيَّةِ ذَكَرَ فِيهِ خِلَافًا بَيْنَهُمْ وَرَجَّحَ الْحُرْمَةَ بِنَحْوِ مَا قُلْنَاهُ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
  61.  
  62. “আমাদের আলেমরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আয়নায় কিংবা পানিতে কোন নারীর লজ্জাস্থানের দিকে কেউ তাকায় তবে এতে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে না। কারণ সে মূলত মেছাল (প্রতিবিম্ব) দেখেছে, খোদ নারীকে দেখে নি। তবে যদি কাঁচ কিংবা পানির মধ্য দিয়ে কাউকে দেখে তবে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে, কারণ কাঁচ ও পানি ভেদ করে তার দৃষ্টি মূল নারীর উপর পড়েছে।
  63.  
  64. এখান থেকে এই বিধানও জানা গেল যে, পরনারীর ছবি আয়না কিংবা পানিতে দেখা হারাম না।
  65.  
  66. তবে হুরমতে মুসাহারা এবং দৃষ্টিপাতের মধ্যে একটি তফাত আছে : প্রথমটির ক্ষেত্রে একটি হালাল বিষয় হারাম হয়ে যায়, তাই এর শর্তগুলোর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়েছে। অন্যদিকে দৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে ফিতনা ও কামোত্তেজনার আশঙ্কা থাকলে দৃষ্টিপাতে নিষেধ করা হয়। যা এক্ষেত্রে (ছবিতে নারীর লজ্জাস্থান দেখা) উপস্থিত রয়েছে। আমি শাফেয়িদের মধ্যে ইবনে হাজারের ফতোয়াতে দেখেছি যে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই নিয়ে শাফেয়িদের মধ্যকার মতপার্থক্য উল্লেখ করার পর তিনি (ফিতনা ও কামোত্তেজনার আশঙ্কা থাকলে) হারাম হবার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ওয়াল্লাহু আ’লাম।”
  67.  
  68. অনেকদিন আগে যখন আমি নাটক-সিনেমা জায়েয হবার বিষয়ে পোস্ট লেখার কথা বলেছিলাম, তখন একদল অতিউৎসাহী লোক পর্ন দেখা কেন জায়েয হবে না তা জিজ্ঞেস করে। আশা করি এখন তারা বুঝতে পারছেন যে, ফিকহ ও উসুল মেনে কথা বললে সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব।
  69.  
  70. পর্নে উলঙ্গ নারীদের যৌনকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ দৃশ্য দেখানো হয়। আর এই দৃশ্যগুলো দেখানোর উদ্দেশ্যই হচ্ছে পুরুষের মাঝে কামোত্তেজনা সৃষ্টি করা। সুতরাং পর্ন হারাম হবার যুক্তি সুস্পষ্ট। এছাড়াও পর্ন হারাম হবার জন্য আমি আরেকটি কারণ উল্লেখ করি এবং সাধারণ মুভি-সিনেমার সাথে এর পার্থক্য উল্লেখ করি।
  71.  
  72. সমাজের সকল মানুষ স্বীকার করবে যে, পর্ন এবং অশ্লীলতা সমার্থক, কিন্তু নাটক-সিনেমা মানেই অশ্লীলতা না। একারণেই গোটা মুসলিম বিশ্বে ঈদের দিনে পরিবারের সবাই মিলে নাটক-সিনেমা দেখার রেওয়াজ আছে। আল্লাহ তা’আলা কোরআনে বলেছেন,
  73.  
  74. إن الذين يحبون أن تشيع الفاحشة في الذين آمنوا لهم عذاب أليم في الدنيا والآخرة
  75. “যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার ঘটাতে চায় তাদের জন্য দুনিয়া-আখিরাতে কঠিন শাস্তি রয়েছে।” (সুরা নুর : ১৯ )
  76.  
  77. নাটক-সিনেমার মূল উদ্দেশ্য থাকে আইডিয়া, জীবন দর্শন ও জীবনের গল্পগুলোকে দৃশ্য ও শব্দের মাধ্যমে উপস্থাপন করা। একটা উপন্যাসের সাথে এর পার্থক্য কেবল এতটুকুই যে, নাটক-সিনেমাতে গল্পগুলো চোখে দেখা যায় ও কানে শোনা যায়।
  78.  
  79. বুদ্ধিমানের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
  80.  
  81. (ভেবেছিলাম মস্ত গবেষণাপত্র লিখে ফেলব, কিন্তু সময় করতে পারলাম না। গবেষণা লেখার আশায় বসে থাকলে হয়ত এই নিয়ে আর লেখাই হবে না। এছাড়াও আমার ছুটি শেষ হয়ে আসছে, তাই এখনকার মত অবসর থাকব না।)
Advertisement
Add Comment
Please, Sign In to add comment