SheikSadi

আল্লাহর মজলুম বান্দা ইবনে তায়মিয়্যাহর পক্ষে কৈফিয়ত - শেখ সাদী

Oct 24th, 2021 (edited)
80
0
Never
Not a member of Pastebin yet? Sign Up, it unlocks many cool features!
text 38.05 KB | None | 0 0
  1. আল্লাহর মজলুম বান্দা ইবনে তায়মিয়্যাহর পক্ষে কৈফিয়ত
  2. লেখক - শেখ সাদী
  3.  
  4. ইজহারুল ইসলাম কাউসারি এবং তার ভক্তকুল উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্ত হতে চান। নিজেদের অপরাধের দোষ আরোপ করতে চান ৭০০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করা মানুষের ওপর। যেই মানুষটির জীবন সমাপ্ত হয়েছিল সকল প্রকারের তাকফির থেকে তাওবা করে।
  5.  
  6. وكذا كان شيخنا ابن تيمية في أواخر أيامه يقول أنا لا أكفر أحدا من الأمة
  7.  
  8. ইমাম যাহাবি লেখেন, ‘আমার শায়খ ইবনে তায়মিয়্যা তার শেষ জীবনে বলতেন, আমি উম্মতের একজন ব্যক্তিকেও কাফের বলি না।’ (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
  9.  
  10. যুবক বয়সের ইবনে তায়মিয়্যার ভুল প্রৌঢ় ইবনে তায়মিয়্যা সংশোধণ করে গিয়েছেন। আস সারেমুল মাসলুলে শিয়াদের কাফের বলার প্রায়শ্চিত্ত করেছেন মিনহাজুস সুন্নাহতে শিয়া ইমামের পেছনে নামায পড়া শুদ্ধ এমন ফতোয়া দিয়ে। মজমুউল ফাতাওয়াতে বলেছেন, শিয়াদের সাথে বিয়েতেও কোন আপত্তি নেই। এমনকি আর রদ্দ আলাস সুবকিতে লিখেছেন যে, শিয়াদের সাথে সুন্নিদের পার্থক্য যৎসামান্য। শরিয়তের অধিকাংশ বিষয়েই শিয়াদের সাথে সুন্নিদের মিল রয়েছে।
  11.  
  12. হুলুলে বিশ্বাসী সুফিবাদের বিরোধিতা করে ইবনে তায়মিয়্যাহকে একাধিকবার জেলে যেতে হয়েছিল। ইবনে তায়মিয়্যাকে জেলে ঢুকিয়ে নির্যাতন করার ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী ছিল যেই ব্যক্তি তার যখন মৃত্যু হয়ে যায়, তখন ইবনে তায়মিয়্যাহ স্বয়ং তার বাসায় যান, পিতার মৃত্যুতে শোকাহত সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন যে, আজ থেকে আমি তোমাদের বাবা। তোমাদের বাবা তোমাদের জন্য যা যা করে দিত, তার সবই আজ থেকে আমি করব!
  13.  
  14. ইবনে তায়মিয়্যাহ হুলুল ও ইত্তেহাদের প্রচণ্ড বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু ইবনে আরাবিকে তিনি কোনদিন কাফের ঘোষণা দেন নি। ইবনে তায়মিয়্যাহ নিজে ইবনে আরাবির একজন ভক্ত ছিলেন। মজমুউল ফাতাওয়াতে তিনি লিখেন :
  15.  
  16. وَإِنَّمَا كُنْت قَدِيمًا مِمَّنْ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِابْنِ عَرَبِيٍّ وَيُعَظِّمُهُ: لِمَا رَأَيْت فِي كُتُبِهِ مِنْ الْفَوَائِدِ مِثْلِ كَلَامِهِ فِي كَثِيرٍ مِنْ " الْفُتُوحَاتِ " " والكنة " " وَالْمُحْكَمِ الْمَرْبُوطِ " " وَالدُّرَّةِ الْفَاخِرَةِ " " وَمَطَالِعِ النُّجُومِ " وَنَحْوِ ذَلِكَ. وَلَمْ نَكُنْ بَعْدُ اطَّلَعْنَا عَلَى حَقِيقَةِ مَقْصُودِهِ وَلَمْ نُطَالِعْ الْفُصُوصَ وَنَحْوَهُ وَكُنَّا نَجْتَمِعُ مَعَ إخْوَانِنَا فِي اللَّهِ نَطْلُبُ الْحَقَّ وَنَتَّبِعُهُ وَنَكْشِفُ حَقِيقَةَ الطَّرِيقِ فَلَمَّا تَبَيَّنَ الْأَمْرُ عَرَفْنَا نَحْنُ مَا يَجِبُ عَلَيْنَا
  17.  
  18. “আমি অতীতে ইবনে আরাবির ব্যাপারে সুধারণা রাখতাম, তাকে ভক্তি করতাম। তার বইপত্র পড়ে অনেক ফায়দা লাভ করতাম, যেমন: ‘আল ফুতুহাত’, ‘আল কুনহ’, ‘আল মুহকামুল মারবুত’ ‘আদ দুররাতুল ফাখিরা’, ‘মাতালিউন নুজুম’ ইত্যাদি। সেসময়ে আমি তার কথাবার্তার প্রকৃত উদ্দেশ্যে বুঝতে পারি নি। অবশেষে ‘আল ফুসুসুল হিকাম’ ইত্যাদি পড়ে আমি তা সম্পর্কে অবগত হই। আল্লাহর খাতিরে আমরা দ্বীনী ভাইয়েরা সত্যের অনুসন্ধান ও অনুসরণ করতাম, তরিকতের হাকিকত লাভের চেষ্টা করতাম। ফলে ইবনে আরাবির প্রকৃত বক্তব্য অনুধাবন করার পর আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের কী করা উচিত। ”
  19.  
  20. ইবনে তায়মিয়্যার উচিত কাজগুলো কী ছিল? লাঠিসোটা হাতে নেয়া, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়া? আপনারা আজ যেসব কাজ করে বেড়াচ্ছেন তার কোনটাই ইবনে তায়মিয়্যাহ করেন নি। তিনি ইবনে আরাবিকে কাফেরও বলেন নি। তার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। মজমুউল ফাতাওয়াতে ইবনে তায়মিয়্যাহ লেখেন,
  21.  
  22. مقالة ابن عربى صاحب فصوص الحكم وهى مع كونها كفرا فهو أقربهم إلى الاسلام لما يوجد في كلامه من الكلام الجيد كثيرا ولأنه لا يثبت على الاتحاد ثبات غيره بل هو كثير الاضطراب فيه وانما هو قائم مع خياله الواسع الذى يتخيل فيه الحق تارة والباطل أخرى والله أعلم بما مات عليه.
  23.  
  24. “ইবনে আরাবি ফুসুসুল হিকাম গ্রন্থে যা লিখেছেন সেগুলো কুফরি কথাবার্তা হওয়া সত্তেও কথাবার্তার দিক থেকে তিনি ছিলেন ইত্তেহাদি সুফিদের মাঝে ইসলামের সবচেয়ে নিকটবর্তী। তার কথাবার্তার মাঝে দারুন সব উক্তিও খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়াও তিনি ইত্তেহাদি মতের উপর সবসময় একাট্টা থাকেন না। বরং তার বক্তব্যের মাঝে অনেক অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। মূলত তিনি বিশাল কল্পনাশক্তির অধিকারী ছিলেন, এই কল্পনা ও চিন্তায় তিনি অবগাহন করে বেড়াতেন। কখনো এই কল্পনায় সত্য কথা প্রতিভাত হত, কখনো ভ্রান্ত কথা। আল্লাহই কেবল জানেন ইবনে আরাবির অন্তিম পরিণতি কেমন ছিল!”
  25.  
  26. ইবনে তায়মিয়্যাহকে যারা বিভক্তি ও ভেদাভেদের কারণ বলে তাদের লজ্জায় আত্মহত্যা করা উচিত। যেখানে তারা সবসময়ই নিজের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ওঁত পেতে থাকেন, সারাক্ষণ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করার ফন্দিতে মেতে থাকেন। সেখানে ইবনে তায়মিয়্যাহ তার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের সাথে কেমন আচরণ করেছিলেন?
  27.  
  28. ইবনে তায়মিয়্যাহর ছাত্র ইবনে কাইয়্যিম নিজ শায়খের সহিষ্ণুতা ও ক্ষমাশীলতার বিবরণ দিয়ে বলেন,
  29.  
  30. وكان بعض أصحابه الأكابر يقول : وددت أني لأصحابي مثله لأعدائه وخصومه، وما رأيته يدعو على أحد منهم قط وكان يدعو لهم وجئتُ يوماً مبشراً له بموت أكبر أعدائه، وأشدهم عداوة وأذى له، فنهرني وتنكر لي واسترجع، ثم قام من فوره إلى بيت أهله فعزاهم، وقال : إني لكم مكانه، ولا يكون لكم أمر تحتاجون فيه إلى مساعدة إلا وساعدتكم فيه، ونحو هذا من الكلام، فسروا به ودعوا له وعظّموا هذه الحال منه فرحمه الله ورضي عنه
  31.  
  32. ‘শায়খের বড় বড় সঙ্গীরা বলতেন : ‘হায়! তিনি নিজের শত্রুর সাথে যে আচরণ করেন আমি নিজের বন্ধুদের সাথে যদি তেমন আচরণ করতে পারতাম!’ আমি সারাজীবনে একবারও দেখি নি যে, তিনি নিজ শত্রুদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করছেন। বরং তিনি তাদের পক্ষে দোয়া করতেন। একদিন আমি খুশির খবর নিয়ে এলাম যে তার সবচেয়ে বড় শত্রু আজকে মারা গিয়েছে যে কিনা শায়খকে অনেক কষ্ট ও নির্যাতন করেছে। কিন্তু আমার খুশি দেখে শায়খ আমাকে ধমক দেন, আমার কাজে আপত্তি জানান এবং আমার কথা প্রত্যাহার করতে বলেন। অতঃপর তিনি কোন সময়ক্ষেপণ না করে উঠে দাঁড়ান এবং সেই শত্রুর বাসায় চলে যান। শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘আজ থেকে আমি ইবনে তায়মিয়্যাহ তোমাদের বাবার মত। তোমাদের যখনই কোন প্রয়োজন হবে আমাকে জানাবে, আমি অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব।’ শায়খের এমন আচরণে ঘরের লোকেরা আনন্দিত হয়, তাকে অনেক ভক্তি-সম্মান করে, তার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া অরে। এটাই ছিল শায়খের মহান চরিত্র। আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হউন, তার রহমতের চাঁদরে তাকে ঘিরে নেন।’
  33.  
  34. কোথায় এই সকল ফেসবুকিয় ফেতনাবাজ লোকদের এমন আখলাক। তারা তো সময়-সুযোগ পেলে তাদের প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে নিজের হাত রক্তাক্ত করতেও দ্বিধা করবে না।
  35.  
  36. ইবনে তায়মিয়্যাহর সকল প্রচেষ্টা ও সাধণা ছিল উম্মতের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার পেছনে। তিনি নিজের এই সংগ্রামের ব্যাপারে লিখেছেন,
  37.  
  38. وَالنَّاسُ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ الْحَنْبَلِيَّةِ وَالْأَشْعَرِيَّةِ وَحْشَةٌ وَمُنَافَرَةٌ. وَأَنَا كُنْت مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ تَأْلِيفًا لِقُلُوبِ الْمُسْلِمِينَ وَطَلَبًا لِاتِّفَاقِ كَلِمَتِهِمْ وَاتِّبَاعًا لِمَا أُمِرْنَا بِهِ مِنْ الِاعْتِصَامِ بِحَبْلِ اللَّهِ وَأَزَلْت عَامَّةَ مَا كَانَ فِي النُّفُوسِ مِنْ الْوَحْشَةِ وَبَيَّنْت لَهُمْ أَنَّ الْأَشْعَرِيَّ كَانَ مِنْ أَجَلِّ الْمُتَكَلِّمِينَ الْمُنْتَسِبِينَ إلَى الْإِمَامِ أَحْمَدَ رَحِمَهُ اللَّهُ
  39.  
  40. وَلِهَذَا اصْطَلَحَتْ ‌الْحَنْبَلِيَّةُ وَالْأَشْعَرِيَّةُ وَاتَّفَقَ النَّاسُ كُلُّهُمْ. وَلَمَّا رَأَى ‌الْحَنْبَلِيَّةُ كَلَامَ أَبِي الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيِّ قَالُوا: هَذَا خَيْرٌ مِنْ كَلَامِ الشَّيْخِ الْمُوَفَّقِ وَزَالَ مَا كَانَ فِي الْقُلُوبِ مِنْ الْأَضْغَانِ وَصَارَ الْفُقَهَاءُ مِنْ الشَّافِعِيَّةِ وَغَيْرِهِمْ: يَقُولُونَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى اتِّفَاقِ كَلِمَةِ ‌الْمُسْلِمِينَ
  41.  
  42. “সমস্ত মানুষ জানে যে, হাম্বলি ও আশআরিদের মাঝে যুগযুগ ধরে বিদ্বেষ ও ঘৃণা চলে আসছে। আমি মুসলিমদের অন্তরগুলোতে মেলবন্ধন নিয়ে আসার ব্যাপারে, তাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সদাচেষ্ট ও সর্বাধিক আগ্রহী। কেননা আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঐক্যের মাধ্যমে তার রজ্জু আঁকড়ে ধরে থাকতে আদেশ করেছেন। আমার চেষ্টার ফলে মানুষের মনে যেই বিদ্বেষ ছিল তার প্রায় সবটুকুই দূর হয়ে যায়। আমি মানুষের কাছে স্পষ্ট করে দেই যে, আশআরি হচ্ছে ইমাম আহমদের (রহিমাহুল্লাহ) সাথে নেসবতযুক্ত শ্রেষ্ঠতম মুতাকাল্লিম।
  43. …
  44. আর একারণেই হাম্বলি ও আশআরিদের মাঝে সন্ধি ও মৈত্রী স্থাপিত হয়। সকল মানুষের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়। হাম্বলিদের যখন আমি আবুল হাসান আশআরির বক্তব্য দেখাই, তারা বলে ওঠে : ‘আরে আশআরির বক্তব্য তো শায়খ মুয়াফফাকের (ইবনে কুদামার বক্তব্য) বক্তব্য থেকেও উত্তম কথা! আর এভাবে মানুষের অন্তর থেকে ঘৃণা দূরীভূত হয়ে যায়। শাফেয়ি ও অন্যান্য (আশআরি) আলেমরা বলতে থাকেন, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর দরবারে যিনি মুসলমানের মাঝে ঐক্য নিয়ে এসেছেন’”
  45.  
  46. বিতর্কিত আকিদার বিষয়ে ইবনে তায়মিয়্যাহ জিন্দেগিতে কখনোই জনসম্মখে মুখ খুলেন নি, সাধারণ মানুষের জন্য আল্লাহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকিদা রাখাই যথেষ্ট, আশআরি-হাম্বলি এসব ফেরকা আলেমদের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য না এটা তিনি বারংবার বলেছেন।
  47.  
  48. وَأَمَّا قَوْلُ الْقَائِلِ: " أَنْ لَا يَتَعَرَّضَ لِأَحَادِيثِ الصِّفَاتِ وَآيَاتِهَا عِنْدَ الْعَامَّةِ " فَمَا فَاتَحْتُ عَامِّيًّا فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ قَطُّ
  49.  
  50. ‘তারা দাবি করেছে যেন আমি আসমা ও সিফাত নিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে কথা না বলি। উত্তরে আমি বলব যে, আমি কোনদিনই সাধারণ মানুষের কাছে আগ বাড়িয়ে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করি নি।’
  51.  
  52. هؤلاء الذين بمصر من الأمراء والقضاة والمشايخ= [إخواني وأصحابي]، أنا ما أسأت إلى أحد منهم قط، وما زلت محسنا إليهم
  53.  
  54. ‘মিসরের এই (আশআরি আকিদার) নেতা, কাযি ও মাশায়েখ হলেন আমার ভাই ও সঙ্গী। আমি জীবনে কখনোই কোনদিন তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি নি। আমি এখনো তাদের খেদমতে নিবেদিত আছি। ’
  55.  
  56. শামের আশআরি আলেমদের ব্যাপারে তিনি বলেছেন,
  57.  
  58. وصل إليكم المحضر الذي فيه خطوط مشايخ الشام وسادات الإسلام
  59.  
  60. “তোমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে সেই ব্যক্তিদের হাতের লেখা চিঠি যা শামের মাশায়েখ, ইসলামের সর্দার।”
  61.  
  62. আশআরি ও মালেকি আলেম ইবনে মাখলুফ শায়খ ইবনে তায়মিয়্যাহকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তার ব্যাপারে ইবনে তায়মিয়্যাহ লিখেছেন,
  63.  
  64. وأنا والله من أعظم الناس معاونةً على إطفاء كل شر فيها وفي غيرها، وإقامة كل خير، وابن مخلوف لو عمل مهما عمل، والله ما أقدر على خير إلا وأعمله معه، ولا أعين عليه عدوه قط، ولا حول ولا قوة إلا بالله، هذه نيتي وعزمي، مع علمي بجميع الأمور، فإني أعلم أن الشيطان ينزغ بين المؤمنين ولن أكون عونا للشيطان على إخواني المسلمين.
  65.  
  66. ‘আল্লাহর কসম কেটে বলি আমি এখানে কিংবা অন্য যে কোথাও মন্দকে নিভিয়ে দিতে চাই, কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ইবনে মাখলুফ আমার সাথে যা চায় করুক, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি যদি তার উপর ক্ষমতা লাভ করি আমি তার সাথে ভাল বৈ কোন আচরণ করব না। আমি তার সঙ্গে থেকে তার শত্রুদের প্রতিহত করব। আল্লাহ ছাড়া আমার কোন সহায় সক্ষমতা নেই। এটাই আমার মনের ইচ্ছা, এটাই আমার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। আমি সকল বিষয়ে জেনেই এটা বলছি। কারণ আমি জানি শয়তান সর্বদাই মুসলিমদের মাঝে বিদ্বেষ তৈরির চেষ্টা করে। তাই আমি আমার মুসলিম ভাইদের বিপক্ষে গিয়ে শয়তানের পক্ষ নিব না। ’
  67.  
  68. হে আল্লাহ! তোমার এই বান্দার বিরুদ্ধে তার জীবদ্দশাতে অপবাদ দেয়া হয়েছে, মিথ্যাচার করা হয়েছে। তোমার এই বান্দা দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পরও আজ একদল কুচক্রী ধর্ম ব্যবসায়ীর দল গোষ্ঠীগত স্বার্থসিদ্ধির লোভে তোমার এই বান্দার উপর নিজেদের সকল ব্যর্থতা ও অপরাধের দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছে। তুমি আল্লাহ এই জালেমদের অপবাদী জবান বন্ধ করে দাও।
  69.  
  70. এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ইবনে তায়মিয়্যাহর নামে অপবাদ দিতে কুণ্ঠা বোধ করে না। অথচ একবারও ভেবে দেখে না যে, তারা ফেসবুকে বসে সাধারণ মানুষের মাঝে কতটা ফিতনা সৃষ্টি করছে। ইসলামকে কতটা কঠিন বানিয়ে উপস্থাপন করছে। আল্লাহতে বিশ্বাস করা যেখানে জগতের সবচেয়ে সহজতম কাজ, সেই কাজটাকেই তারা কতটা কঠিন বানিয়ে ফেলেছে। সহিহ আকিদার নামে সহিহ ধর্ম ব্যবসা করছে। বইমেলায় দুয়েকটা চটি বই বিক্রি করে সামান্য দুই-চার পয়সা হাতিয়ে নেয়ার ধান্দায় আল্লাহর বান্দাদেরকে আল্লাহর দ্বীন থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিচ্ছে।
  71.  
  72. এই কুচক্রীরা নিজেদের আশআরি আকিদার ধারক-বাহক দাবি করে! অথচ তাদের প্রত্যেকটা কথা ও কাজ আশআরি ইমামদের মানহাজ ও মাসলাক বিরোধী!
  73.  
  74. আসুন দেখা যাক, সাধারণ মানুষের আকিদা বিশ্বাস কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে আমাদের আশআরি আইম্মায়ে কেরাম কী বলেছেন।
  75.  
  76. ইমাম ইজ্জুদ্দীন বিন আব্দিস সালামকে দিয়ে শুরু করছি। তিনি তার ‘আল কাওয়ায়েদ’ কিতাবে লিখেন,
  77.  
  78. ولولا أن الله قد سامحهم بذلك وعفا عنه لعسر الانفصال منه ولما أجريت عليهم أحكام المسلمين بإجماع المسلمين، ومن زعم أن الإله يحل في شيء من أجساد الناس أو غيرهم فهو كافر لأن الشرع إنما عفا عن المجسمة لغلبة التجسم على الناس فإنهم لا يفهمون موجودا في غير جهة بخلاف الحلول فإنه لا يعم الابتلاء به ولا يخطر على قلب عاقل ولا يعفى عنه
  79.  
  80. 'যদি না আল্লাহ সাধারণ মানুষের জন্য দেহবাদী বিশ্বাসকে মার্জনা করতেন, যে বিশ্বাস থেকে মুক্ত হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর, আমরা সাধারণ মানুষকে মুসলিম হিসেবেই স্বীকৃতি দিতাম না। কিন্তু যদি কেউ হুলুলের বিশ্বাস করে যে আল্লাহ কোন মানুষ কিংবা বস্তুর মাঝে অধিষ্ঠিত হয়েছে তাকে কাফের বলতে আমরা দ্বিধা করব না। কারণ শরিয়তে দেহবাদীদের (মুজাসসিমা) মার্জনা করে দেয়া হয়েছে কারণ এটা মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচলিত। মানুষের পক্ষে দিকের ধারণা ব্যতীত কোন অস্তিত্ব অনুধাবন করা সম্ভব না। কিন্তু হুলুলের ব্যাপারে এমন বলা যায় না। সাধারণ মানুষ এই জাতীয় চিন্তাভাবনা দ্বারা আক্রান্ত নয় এবং কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের মনে এমন চিন্তাও আসে না। তাই এখানে মার্জনা করার কোন সুযোগ নেই।'
  81.  
  82. অথচ এই তথাকথিত আশআরি দাবিদারদের দেখবেন যে, হুলুল-ইত্তেহাদ নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই। কিন্তু দেহবাদীদের পারলে মেরেই ফেলে।
  83.  
  84. ইমাম ইজ্জুদ্দীন আরো বলেন,
  85.  
  86. (إن اعتقاد موجود ليس بمتحرك ولا ساكن ولا منفصل عن العالم ولا متصل به , ولا داخل فيه ولا خارج عنه لا يهتدي إليه أحد بأصل الخلقة في العادة , ولا يهتدي إليه أحد إلا بعد الوقوف على أدلة صعبة المدرك عسرة الفهم فلأجل هذه المشقة عفا الله عنها في حق العامي) أهـ
  87.  
  88. “এমন একটি অস্তিত্বের ধারণা যা না গতিময়, না স্থিতিশীল, না জগত থেকে বিচ্ছিন্ন, না জগতের সাথে সংযুক্ত, না জগতের ভেতরে, না জগতের বাইরে — স্বাভাবিক অবস্থায় (আদাতান) এমন বিশ্বাসের দিকে মানুষ তার সহজাত প্রবণতার মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। বরং বহু কষ্ট-সাধনা করে কঠিন যুক্তিতর্ক দিয়ে প্রমাণ করার পরি কেবল এই বিশ্বাসটি বোধগম্য হয়। আর এই কষ্টের দিকে তাকিয়েই আল্লাহ সাধারণের জন্য দেহবাদী আকিদা মার্জনা করেছেন।”
  89.  
  90. এবার আসা যাক, ইমাম তাফতাযানির বক্তব্যের দিকে। কওমি মাদ্রাসাগুলোতে না বুঝেই কেবল পরীক্ষা পাশের জন্য ছাত্ররা তার শরহুল আকায়েদ মুখস্থ করে থাকে।
  91.  
  92. ইমাম সাদুদ্দীন তাফতাযানি তার শরহুল মাকাসেদ কিতাবে বলেন,
  93.  
  94. ( فإن قيل: إذا كان الدين الحق نفي الحيز والجهة فما بال الكتب السماوية والأحاديث النبوية مشعرة في مواضع لا تحصى بثبوت ذلك من غير أن يقع في موضع واحد تصريح بنفي ذلك ؟أجيب بأنه: لما كان التنزيه عن الجهة مما تقصر عنه عقول العامة حتى تكاد تجزم بنفي ما ليس في الجهة: كان الأنسب في خطاباتهم والأقرب إلى إصلاحهم والأليق بدعوتهم إلى الحق ما يكون ظاهراً في التشبيه
  95.  
  96. ‘কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, স্থান ও দিক নাকচ করাই যদি সত্য ও প্রকৃত ধর্ম হয়ে থাকে তবে আসমানি কিতাব কিংবা নবির হাদিসগুলোর এহেন দশা কেন? কিতাব ও হাদিসের অগণিত স্থানে দেহবাদী ধারণাদায়ক বক্তব্য পাওয়া যায়। অথচ একটা জায়গাতেও স্পষ্ট ভাষায় দেহবাদ নাকচ করা হয় নি।
  97. এর উত্তরে আমরা বলব : দিক নাকচ করার বিশ্বাস যেহেতু সাধারণ মানুষের আকলে ধরে না, এমনকি কোন একটি দিকে না থাকলে মানুষ সেই বিষয়ের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে, একারণে এমন ভাষা নির্বাচন করা কিতাব ও সুন্নাতের জন্য উপযোগী ছিল যা মানুষের সংশোধনের জন্য অধিক উপযুক্ত এবং তাদের জন্য সত্য গ্রহণে দ্রুততম হবে। আর এর ফলে এমন ভাষা ব্যবহার হয়েছে যা বাহ্যিক ভাবে মূলত তাশবিহ (সাজুয্যবাদ)।'
  98.  
  99. ফেসবুকের আকিদা বিতর্কে প্রায়ই সহিহ মুসলিমের দাসীর হাদিসটি চলে আসে। নবি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আল্লাহ কোথায়?’ দাসী জবাব দিয়েছিল, ‘আসমানে’। এই হাদিসে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে যে, সেই দাসী আল্লাহর জন্য দিক সাব্যস্ত করত। যা কিনা দেহবাদী বিশ্বাস। কিন্তু আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীর কথায় আপত্তি করেন নি। কেন করেন নি এই নিয়ে ইবনে হাজার আল হায়তামি লিখেছেন তার ‘তুহফাতুল মুহতাজ’ গ্রন্থের নবম খণ্ডে।
  100.  
  101. ইমাম ইবনে হাজার মক্কি বলেন,
  102.  
  103. من ثم قيل أخذاً من حديث الجارية : يغتفر نحو التجسيم والجهة في حق العوام ; لأنهم مع ذلك على
  104. غاية من اعتقاد التنزيه والكمال المطلق
  105.  
  106. ‘এ যুক্তিতেই দাসীর হাদিসের ব্যাপারে বলা হয় : সাধারণ মানুষের জন্য দেহবাদ (তাজসিম), দিক ইত্যাদি বিশ্বাস ক্ষমার্হ্য। কেননা এ সকল বিশ্বাস থাকা সত্তেও তারা চূড়ান্তভাবে আল্লাহকে সকল দোষত্রুটি মুক্ত এবং পরিপূর্ণ কামালের অধিকারী বলে বিশ্বাস রাখে।’
  107.  
  108. আলোচনার ইতি টানছি। শুনতে পাচ্ছি যে, আপনারা পাবলিককে এসব আকিদা শেখানোর জন্য কী কী কোর্স চালু করেছেন। আপনাদের তো নিশ্চয়ই এই বক্তব্যগুলো অজানা নয়। তারপরেও কেন আপনারা সাধারণ মানুষকের মন-মস্তিষ্ককে এই আকিদার জটিল আলাপ দিয়ে বিষিয়ে তুলছেন। এখানে আপনাদের স্বার্থটা কীসের? আমিও তো আজ থেকে ৪ বছর আগে এগুলো নিয়ে ফেসবুকে তর্ক করতাম। কিন্তু আল্লাহ আমাকে জ্ঞান ও বুঝ দেয়ার পর আমি এগুলো নিয়ে পাবলিকলি কথা বলা ত্যাগ করেছি। কিন্তু হে ভাই! আপনাকে আমি সেই ২০১৩ থেকে দেখে আসছি যে, আপনি একই চর্বিত চর্বন কোন ধরণের ক্লান্তি ছাড়াই নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। আপনার আলোচনায় আমি নতুন কোন জ্ঞান দেখি না। সেই পুরোনো কথাগুলোই ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে লিখে যাচ্ছেন। পরিবর্তন বলতে একটাই দেখছি যে, আগে আপনার যা ফলোয়ার ছিল এখন সেটা দশ-বিশগুণ বড় হয়েছে।
  109.  
  110. সমাপ্তি টানছি ইবনে হাজার আসকালানির একটি বক্তব্য দিয়ে, বক্তব্যটি তার ছাত্র আল্লামা সাখাভি ইবনে হাজার আসকালানির জীবনীগ্রন্থ ‘আল জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ফি তারজামাত ইবনি হাজার’ এ লিখেছেন,
  111.  
  112. ‌وشهرة ‌إمامه الشيخ تقي الدين ابن تيمية أشهرُ مِنَ الشَّمس، وتلقيبُه بشيخ الإسلام في عصره باقٍ إلى الآن على الألسنة الزكيَّة، ويستمر غدًا كما كان بالأمس، ولا يُنكِرُ ذلك إلَّا من جهل مقداره، أو تجنَّب الإنصاف، ممّا أكثر غلط مَنْ تعاطى ذلك وأكثر عثاره، فاللَّه تعالى هو المسؤول أن يقينا شُرورَ أنفسنا وحصائد ألسنتا بمنِّه وفضله
  113.  
  114. ‘তার (ইবনে নাসরুদ্দিন দিমাশকি) ইমাম শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে তায়মিয়্যাহর খ্যাতি সুর্যের চাইতেও প্রকট। শায়খুল ইসলাম উপাধি তিনি লাভ করেছেন তার যুগের ব্যক্তিদের কাছ থেকে। আর এই উপাধি আজও জারি আছে পুণ্যবান ব্যক্তিদের জবানে। আগামীকালও মানুষ তাকে শায়খুল ইসলাম ডাকবে যেভাবে গতকাল তারা ডেকেছে। তার সম্পর্কে অজ্ঞমূর্খ লোক কিংবা বেইনসাফ লোকেরা ব্যতীত এই উপাধি কেউ অস্বীকার করবে না। এই বেইনসাফিতে লিপ্তরা বহু ভুল করেছে এবং প্রচার করেছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন তিনি আমাদেরকে অন্তরের মন্দ থেকে রক্ষা করেন, জিহ্বার প্রতিহিংসা থেকে রক্ষা করেন। তার দয়া ও অনুগ্রহের বরকতে।’
  115.  
  116. আমিন।
Add Comment
Please, Sign In to add comment